শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত হিন্দু আধ্যাত্মিক গুরু, দার্শনিক এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের এক শক্তিশালী প্রচারক।
জন্ম ও পরিচয়: তিনি ১৮৭৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি উড়িষ্যার পুরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বিখ্যাত বৈষ্ণব পণ্ডিত ও সাধক শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর।
গৌড়ীয় মঠ প্রতিষ্ঠা: তিনি ১৯১৮ সালে মায়াপুরে 'গৌড়ীয় মঠ' প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রেমভক্তি ও শিক্ষা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া।
সিংহগুরু উপাধি: তাঁর অটল নীতি, শাস্ত্রীয় জ্ঞান এবং নির্ভীক প্রচারের জন্য তাঁকে 'সিংহগুরু' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
পাশ্চাত্যে প্রচারের ভিত্তি: তাঁর মাধ্যমেই গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম আধুনিক রূপ পায়। পরবর্তীতে তাঁরই সুযোগ্য শিষ্য শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ (ইসকন প্রতিষ্ঠাতা) সারাবিশ্বে এই কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করেন।
শিক্ষা ও জ্ঞান: তিনি জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত এবং সংস্কৃতে অসাধারণ পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন এবং 'সিদ্ধান্ত সরস্বতী' উপাধি লাভ করেন।
মুদ্রণ যন্ত্রের ব্যবহার: তিনি মুদ্রণ যন্ত্রকে 'বৃহৎ মৃদঙ্গ' বলতেন, কারণ এর মাধ্যমে ছাপানো বই দূর-দূরান্তে কৃষ্ণকথা পৌঁছে দিতে পারে।
সামাজিক সংস্কার: তিনি জাতপাত ও বংশগত গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে গিয়ে ভক্তি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দীক্ষা এবং ব্রাক্ষণত্ব প্রদানের সংস্কার করেন।
বিপুল সাহিত্য কর্ম: তিনি অসংখ্য গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন এবং আধ্যাত্মিক পত্রিকা (যেমন: গৌড়ীয়, সজ্জন তোষণী) প্রকাশ করেছেন।
পদাঙ্ক অনুসরণ: তিনি ৬৪টি গৌড়ীয় মঠ স্থাপন করেছিলেন এবং অসংখ্য মানুষকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন।
তিরোভাব: ১৯৩৭ সালের ১ জানুয়ারি তিনি এই ধরাধাম ত্যাগ করেন। তাঁর সমাধি শ্রীধাম মায়াপুরে অবস্থিত।


