প্রথম অধ্যায়, শ্লোক নং ১
ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুয়ুত্সবঃ।
মামকাঃ পাণ্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয়।।
ধৃতরাষ্ট্র বলিলেন— হে সঞ্জয়! ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রে সমবেত, যুদ্ধেচ্ছুক আমার পুত্রগণ এবং পাণ্ডুর পুত্রগণ কী করিল?
ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন জন্মান্ধ। তিনি জানতেন কুরুক্ষেত্র এক "ধর্মক্ষেত্র", অর্থাৎ যেখানে ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি অন্তরে জানতেন— যেহেতু কুরুক্ষেত্র এক পবিত্র স্থান, সুতরাং পাণ্ডবদেরই জয়লাভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবুও তিনি পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন নিজের সন্তানদের প্রতি। তাই তিনি সঞ্জয়কে প্রশ্ন করলেন— "আমার পুত্র ও পাণ্ডুর পুত্ররা কী করল?"।
এখানে "মামকাঃ" (আমার পুত্র) এবং "পাণ্ডবাঃ" শব্দ দুটি ব্যবহারের মাধ্যমে ধৃতরাষ্ট্র বুঝিয়েছেন যে তিনি পাণ্ডবদেরকে নিজের পুত্র বলে মনে করতেন না।
ভগবদ্গীতার সূচনা থেকেই দেখা যায়— বস্তুতঃ কুরুক্ষেত্র ধর্মক্ষেত্র হওয়ায় জয়ী হবেন ধর্মপক্ষ, অর্থাৎ পাণ্ডবরা।
প্রশ্ন ১: ধৃতরাষ্ট্র কাকে উদ্দেশ্য করে এই প্রশ্ন করেছেন?
উত্তর: তিনি তাঁর সেক্রেটারি সঞ্জয়কে উদ্দেশ্য করে এই প্রশ্ন করেছেন।
প্রশ্ন ২: কুরুক্ষেত্রকে কেন "ধর্মক্ষেত্র" বলা হয়েছে?
উত্তর: কারণ কুরুক্ষেত্র এক পবিত্র তীর্থস্থান যেখানে যজ্ঞাদি ও ধর্মীয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। তাই একে "ধর্মক্ষেত্র" বলা হয়।
প্রশ্ন ৩: ধৃতরাষ্ট্র "মামকাঃ" এবং "পাণ্ডবাঃ" আলাদা করে বললেন কেন?
উত্তর: কারণ তিনি পাণ্ডবদের নিজের পরিবারের অংশ মনে করতেন না। তিনি শুধুমাত্র তাঁর শত পুত্রদের পক্ষেই পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন।
প্রশ্ন ৪: এই শ্লোক থেকে ভগবদ্গীতার কোন মূল শিক্ষা শুরু হয়?
উত্তর: এখান থেকে প্রকাশ হয়— যুদ্ধে দুই পক্ষের বাহ্যিক সংঘর্ষ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তা ধর্ম ও অধর্মের মধ্যে সংগ্রাম।
প্রশ্ন ৫: ধৃতরাষ্ট্র কেন উদ্বিগ্ন ছিলেন?
উত্তর: কারণ কুরুক্ষেত্র ধর্মক্ষেত্র হওয়ায় তিনি জানতেন— তাঁর অন্যায়কর্মে লিপ্ত পুত্রদের পরাজয়ের সম্ভাবনা প্রবল।