উপখ্যান: (শ্রীকৃষ্ণ ও স্যমন্তক মণি)।
উপখ্যান: (শ্রীকৃষ্ণ ও স্যমন্তক মণি)।
79 views

প্রাচীনকালে দ্বারকারাজা সত্যজিৎ নামে এক ধনবান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সূর্যদেবের পরম ভক্ত ছিলেন এবং সূর্যদেব তাকে এক অমূল্য রত্ন—"স্যামন্তক মণি" উপহার দেন। এই মণি দৈনিক ৮ ভরি সোনা উৎপন্ন করত এবং যেখানে থাকত, সেখানে কোনো রকম দুর্ভিক্ষ, রোগ বা দুঃখ থাকত না।

সত্যজিৎ প্রতিদিন এই মণি পূজা করতেন। একদিন শ্রীকৃষ্ণ তাকে প্রস্তাব দেন যে, এই মণি যেন রাজপ্রাসাদে রাখা হয় যাতে সমস্ত প্রজারা উপকৃত হয়। কিন্তু সত্যজিৎ তা অস্বীকার করেন।

এর কিছুদিন পর সত্যজিৎ তার ভাই প্রদ্যুম্নকে নিয়ে জঙ্গলে শিকার করতে যান। সেখানে প্রদ্যুম্ন ও মণি নিখোঁজ হয়ে যায়। চারদিকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে শ্রীকৃষ্ণই মণি চুরি করেছেন। রাজ্যে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়।

শ্রীকৃষ্ণ তখন নিজের সম্মান রক্ষার্থে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন, এক সিংহ প্রদ্যুম্নকে হত্যা করে মণি নিয়ে গেছে এবং পরে সেই সিংহকে হত্যা করে এক ভালুকরাজ "জাম্ববান" মণি নিয়ে তার গুহায় রেখেছেন।

শ্রীকৃষ্ণ জাম্ববানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব করেন টানা ২৮ দিন। শেষে জাম্ববান চিনতে পারেন যে এটি আর কেউ নন, স্বয়ং রামচন্দ্র, যাঁর সঙ্গে তিনি রামায়ণে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি অনুতপ্ত হয়ে কৃষ্ণকে মণি ফিরিয়ে দেন এবং তাঁর কন্যা জাম্ববতীকে বিবাহ দেন।

শ্রীকৃষ্ণ মণি ফিরিয়ে সত্যজিতকে দেন এবং তাঁর নির্দোষ প্রমাণিত হয়।

এই উপখ্যানের বার্তা: সত্য, ধৈর্য ও ঈশ্বরভক্তি সবসময় বিজয়ী হয়। মণির মতো বস্তুগত জিনিস নিয়ে বিতর্ক হলেও ঈশ্বরের উদ্দেশ্য পবিত্র এবং তা অবশেষে কল্যাণই বয়ে আনে।