
প্রাচীনকালে হিমালয়ের কোলে একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করতেন এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ, নাম তার ধ্রুব। তিনি ভগবান শিবের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। প্রতিদিন ভোরে উঠে গঙ্গাজল সংগ্রহ করে গ্রামের পাশের শিবমন্দিরে গিয়ে শিবলিঙ্গে জল অর্পণ করতেন। যদিও তাঁর সংসার চালানো ছিল কষ্টসাধ্য, তবুও কোনোদিন শিবপূজায় অবহেলা করতেন না।
একদিন গ্রামের রাজা ঘোষণা করলেন, “যে ব্যক্তি সবচেয়ে সুন্দর রত্নখচিত পুজা নিবেদন করবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে।” গ্রামের ধনীদেরা দামি পাথর, সোনার বেলপাতা ও দুধ-দই নিয়ে পুজা দিল। ধ্রুবর কিছুই ছিল না। তবুও তিনি বনের বেলগাছ থেকে বেলপাতা তুলে, নিজের হাতে ধোয়া গঙ্গাজল এনে শিবের উদ্দেশে বললেন, “প্রভু, আমার কাছে কিছুই নেই, শুধু আছে আপনার প্রতি ভালোবাসা।”
সেই রাতে রাজা এক স্বপ্ন দেখলেন—ভগবান শিব নিজে এসে বলছেন, “যারা সোনা দিল, তারা নাম ও পুরস্কারের আশায় দিয়েছে। কিন্তু ধ্রুব আমাকে নিজের হৃদয় দিয়ে পূজা করেছে। তার ভালোবাসার ওজন পৃথিবীর সব রত্নের চেয়েও বেশি।”
পরদিন রাজা ধ্রুবকে ডেকে এনে সম্মান দিয়ে পুরস্কৃত করেন। ধ্রুব বুঝলেন, সাচ্চা ভক্তি কখনো বৃথা যায় না।
শিক্ষা: ভগবান শিব বাহ্যিক সম্পদের নয়, আন্তরিকতার মূল্য দেন। ভালোবাসা ও নিষ্কলঙ্ক ভক্তিই তাঁকে খুশি করে।


