
অনেক পুরানো কথা,
এক শেঠের কাছে এক ব্যক্তি কাজ করতো। শেঠজি ওই ব্যক্তিকে খুব বিশ্বাস করতো। শেঠের যা জরুরী কাজ থাকতো তা ওই ব্যক্তি করতো।
ওই ব্যক্তি পরম ভক্ত ছিল। সেই ব্যক্তি সদা ভগবানের চিন্তা, ভজন,কীর্তন, স্মরণ, সৎসঙ্গ করতো।
একদিন সেই ব্যক্তি শেঠজির কাছে শ্রীজগন্নাথ ধাম যাত্রার জন্য ছুটি চাইলেন।
শেঠজি ছুটি দিলেন আর বললেন-" ভাই আমি তো সংসারী মানুষ, সব সময় ব্যাবসার কাজে ব্যস্ত থাকি তার কারনে কখনো তীর্থ যাত্রার সুযোগ হয় না।
তুমি তো যাচ্ছো, এই ১০০ টাকা আমার নামে প্রভু জগন্নাথদেবের চরণ সেবায় সমর্পিত করে দিও।"
সেই ব্যক্তি টাকাটা নিয়ে জগন্নাথ দর্শনে যাত্রা শুরু করলো।
অনেকদিন পায়ে হেঁটে যাত্রা করে, সে জগন্নাথ পুরী পৌছালো।
মন্দিরে যাওয়ার সময় সে রাস্তায় দেখলো অনেক সাধুসন্ত, ভক্তজন,বৈষ্ণবজন হরিনাম সংকীর্তনে খুব আনন্দ করছিল।
কীর্তনের আনন্দে তাদের চোখ থেকে অশ্রুধারা পড়ছিল।
জোরে জোরে তারা হরিবোল হরিবোল বলছিল। সংকীর্তনে খুব আনন্দ হচ্ছিল। চারিদিকের সকল ভক্তরা এসে ওখানে দাঁড়িয়ে সংকীর্তনের আনন্দ নিচ্ছিল।
সেই ব্যক্তি দেখছিল সংকীর্তনরত সব ভক্তজনদের। সে দেখলো সংকীর্তন করতে করতে তাদের ঠোট শুকিয়ে গেছে, দেখে মনে হচ্ছে তারা খুব ক্ষুধার্ত।
সে এই ক্ষুধার্ত ভক্তদের দেখে চিন্তা করলো , "শেঠজী আমাকে যে ১০০ টাকা দিলো তারথেকে ভক্তদের ভোজনের ব্যাবস্থা করি।
সেই ব্যক্তি ওই ১০০ টাকা থেকে ভোজনের ব্যবস্থা করলো।
সকলকে ৯৮ টাকা দিয়ে ভোজন করালেন। সকলে খুব তৃপ্ত হলেন।
তার কাছে শুধু ২ টাকা আছে, সে ভাবলো " এই ২ টাকাই আমি জগন্নাথের চরণে শেঠজির নামে সমার্পন করবো।
যখন আমি শেঠজীর কাছে পৌছাবো, তখন বলবো আমি জগন্নাথের চরণে টাকা সঁপেছি।
শেঠজী তো জিজ্ঞেস করবেন না যে ১০০ টাকা আমি জগন্নাথের চরণে সমার্পন করেছি কিনা।
আর যদি শোনে তবে বলবো দিয়েছি, তাহলে মিথ্যেও বলা হবে না, এবং কাজও হয়ে যাবে।
সেই ব্যক্তি আকুল মনে জগন্নাথদেবের দর্শনের জন্য মন্দিরে প্রবেশ করলো।
শ্রীজগন্নাথদেবের এমন অপরূপ রূপ নয়ন ভরে দর্শন করে নিজ হৃদয়ে তার রূপমাধুরী বিরাজমান করলো।
শেষে সেই ২ টাকা তাঁর চরণে দিয়ে বললো, এই ২ টাকা আমার শেঠজী দিয়েছে।
ঐরাতে শেঠজীকে জগন্নাথদেব স্বপ্ন দেখালেন, আর বললেন- তোমার ৯৮ টাকা আমি পেয়েছি,এই বলে জগন্নাথদেব অন্তর্ধান হয়ে গেলেন।
শেঠজী জেগে গেল আর ভাবতে লাগলো, আমার কাজের লোক খুব সৎ আর বিশ্বাসী।
হঠাৎ কি এমন হলো
কি এমন দরকার পড়লো, যে আমার দেওয়া টাকা থেকে দুই টাকা ভগবানকে কম দিল! সে দুই টাকা কিসে খরচ করলো! কি এমন প্রয়োজন পড়লো!
এসব কথা শেঠজি বিচার করতে লাগলো।
কিছুদিন পর সেই ব্যক্তি শেঠজীর কাছে ফিরে আসলো।
শেঠজি তখন তাকে জিজ্ঞেস করলো, আমার টাকা জগন্নাথজীকে সমার্পন করেছো তো?
ভক্ত বললো, হ্যাঁ শেঠজি করেছি।
শেঠজি বললো, কিন্তু তুমি যে ৯৮ টাকা দিলে, আর দুইটাকা কি কাজে খরচ করলে ?
তখন ভক্ত ভাবছিলো শেঠজী কিভাবে জানলো! ভক্ত তখন সব ঘটনা খুলে বললো শেঠজীকে।
বললো, সে ৯৮ টাকা দিয়ে সাধুসন্তদের সেবা করিয়েছে আর দুই টাকা জগন্নাথদেবের চরণে অর্পন করেছে।
শেঠজী সকল কথা শুনে বড় খুশি হলেন এবং সেই ব্যক্তির চরণে এসে পড়লেন।
আর বললেন, তুমি ধন্য তোমার জন্য আমি প্রভুকে ঘরে বসে দর্শন করতে পেরেছি।
ভগবানের আসলে কোনো ধনের প্রয়োজন নেই। ওই ৯৮ টাকা স্বীকার করলেন কারণ, ওটা যে ভক্তের সেবাতে লেগেছে।
কারণ ভক্তের হৃদয়ে ভগবানের বাস।
যে দুই টাকা চরণে দিলো ওই টাকাটার কোনো মুল্য নেই প্রভুর কাছে।
তার সৃষ্টিকে ভালোবাসলে, সেবা করলে তাকেই সেবা করা হয়।
জয় ভগবান


