
পুরী মন্দিরের আশ্চর্য প্রদীপ-
আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু তা ছিল কল্পকাহিনীর একটি আশ্চর্য প্রদীপ। কিন্তু আজ আপনাদের সামনে সত্যি এক আশ্চর্য প্রদীপের কথা শেয়ার করবো। আমরা সবাই জগন্নাথ পুরী মন্দিরে কথা জানি, জগন্নাথ পুরী মন্দিরের চূড়ায় যে প্রদীপটি প্রতি একাদশীতে প্রজ্জ্বলন করা হয় সেটি বাস্তবিকই আশ্চর্য প্রদীপ ! কেননা ২১৪ ফুট ৮ ইঞ্চি উঁচু পুরী মন্দিরের সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থিত এ প্রদীপ সাধারণভাবে প্রবাহিত তীব্র বাতাসের বেগ ছাড়াও পার্শ্বে অবস্থিত সমুদ্র বা ঝরো দমকা হাওয়ার প্রচন্ড বাতাসেও সেই অলৌকিক মহাদীপ কখনো নিভে না। এই চূড়ায় নীলচক্রের নীচে প্রজ্জ্বলিত এ প্রদীপ প্রায় ১ ফুট লম্বা ও ১ ফুট চওড়া এবং এই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করতে লাগে প্রায় আড়াই কেজি ঘি। যা সত্যি আশ্চর্যই বটে।
# জগন্নাথের খিলি পান সেবা-
শ্রীজগন্নাথ পুরীধামে এক ধনী ধাম্ভিক
ব্যাক্তি আসলেন ভগবান জগন্নাথকে
দর্শন করতে। তিনি শুনেছেন পুরীর মন্দিরে
স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জগন্নাথরুপে অবস্থান
করেন।
তিনি জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করা মাত্র এক
ভক্ত তাকে জগন্নাথের প্রসাদ সাধলেন। কিন্তু
তিনি তা নেওয়ার আগে পকেটে হাত দিয়ে
কিছু টাকা বের করে সেই ভক্তকে দিতে
চাইলেন।
ভক্তটি বলল, না মশাই টাকার প্রয়োজন নেই
আমার, আপনি প্রসাদটুকু নিন।
ধনী ব্যাক্তিটি বলল, আমি টাকা ছাড়া
কোনকিছু গ্রহন করি না।
এই ব্যাপারটি মন্দিরের এক পান্ডা দেখে সব
বুঝতে পারলেন। তিনি এই ধাম্ভিক
ব্যাক্তিটিকে আনন্দবাজার প্রসাদের
মার্কেটে নিয়ে জগন্নাথের প্রসাদের
অর্ডার নেওয়ার জন্য বললেন।
ধনীব্যাক্তিটি টাকার গরিমা দিয়ে মন্দিরের
পান্ডাদের সাথে তার ধনাঢ্য মহিমা প্রচার
করতে চাইলেন, যেন তা সবাই জানতে পারে।
যিনি প্রসাদের অর্ডার নেন তাকে বললেন,
ভগবান জগন্নাথকে প্রতিদিন ৫৬টি ভোগ
নিবেদন করা হয়, আমি সেই ভোগের যেকোন
একটি আইটেম দিতে চাই তার দাম যেন এক
লক্ষ টাকা হয়।
এক লক্ষ টাকার কথা শুনে সবাই আশ্চর্যান্বিত
হল কিন্তু এত টাকায় একটি আইটেম কি করে
দিবে? তারা কেউ এর সমাধান করতে পারল
না। ধনী ব্যাক্তিটির এক কথা এক আইটেম যেন
এক লক্ষ টাকার হয়।
তখন সেই পান্ডা জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান
পুজারীর কাছে গেলেন। সব শুনে প্রধান
পুজারী তাদের বললেন, এর সমাধান স্বয়ং
ভগবান জগন্নাথ দিবেন, তবে আজ নয় কাল।
কারন জগন্নাথ মন্দিরের নিয়ম আছে যদি কোন
সিদ্বান্ত নিতে সবাই অপারগ হন তখন প্রধান
পুজারী উপবাস করে জগন্নাথের ধ্যানে বসেন
এবং তখন ভগবান জগন্নাথ তার সমাধান দিয়ে
দেন।
প্রতিদিন ভগবান জগন্নাথকে ৫৬টি ভোগের
সাথে তিনটে পানের খিল্লি দেওয়া হয়।
একটি জগন্নাথ, একটি বলরাম ও একটি সুভদ্রা
মহারানীর জন্য।
প্রধান পূজারী ভগবান জগন্নাথের ধ্যানে
বসলে তাকে ভগবান জগন্নাথ বললেন, সে
ব্যাক্তিকে বল ও যেন আমায় এক খিলি পান
দেয়। কিন্তু পানের খিলিতে চূন, খয়ের ও
সুপারীর পরিবর্তে মিহিমুক্তাদানা যেন দেয়।
বৈকূণ্ঠলোক বাসীরা ভগবানকে ভোগের সাথে
প্রতিদিন এক খিলি পান দেন যাতে এই
মিহিমুক্তাদানা থাকে। আর এই
মিহিমুক্তাদানা পাওয়া যায় গজ বা হাতীর
মাথা থেকে। পৃথিবীতে প্রবাদ আছে হাতী
মরলেও লাখ টাকা, কেননা যদি সেই হাতীর
মাথায় যদি মিহিমুক্তাদানা পাওয়া যায়।
আজও হাতীর মাথায় সেই মিহিমুক্তাদানা
পাওয়া যায় তবে লাখে একটি হাতীতে।
সব শুনে সেই ধাম্ভিক ব্যাক্তিটি মাথায় হাত
দিয়ে বসে পরলেন। সে টাকার অহংকার করে
বুঝতে পারলেন যে ভগবান জগন্নাথকে এক
খিলি পান দিতে তার সামর্থ্য নেই।
সেই ধাম্ভিক ব্যাক্তিটি টাকার গরিমা ত্যাগ
করে ভগবানের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত
করল। এবং জগন্নাথের একনিষ্ঠ ভক্তে
রুপান্তরিত হলেন। তিনি হলেন ভারতের
হায়দ্রাবাদবাসী যশোবন্ত মেহেতা। আজও
মেহেতা পরিবার জগন্নাথের সেবায়
নিজেদের উৎসর্গ করেন।। জয় জগন্নাথ।।


