
ধ্রুবের ভক্তি লীলা (Dhruva Bhakti Leela)
প্রাচীনকালে রাজা উদ্ধব ও রানী সুভদ্রার একটি পুত্র জন্ম নিল ধ্রুব। ধ্রুবের সৎমা কুড়িগর্ভিণী হওয়ার পর সে ধ্রুবকে অপমান করতেন। একবার ধ্রুব যখন বনবিটে খেলছিল, তখন তিনি সৎমাকে অপমানিত বোধ করলেন।
ছেলে ধ্রুবের এই অবস্থা দেখে রাজা উদ্ধব তাঁর প্রিয় উপদেষ্টা নৃত্রত্নকে ধ্রুবকে বিষ্ণুর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন। নৃত্রত্ন ধ্রুবকে বনবাসে নিয়ে গেলেন।
ধ্রুব ছোট বয়সে, মাত্র পাঁচ বছর বয়সে, মহাদেব ও বিষ্ণুর তপস্যা করতে শুরু করলেন। কিন্তু তিনি জানতে পারলেন বিষ্ণু তাঁর কাছে ততক্ষণ আসবেন যখন তিনি তাঁদের নাম উচ্চারণ করবেন একাগ্রচিত্তে, নির্ভয়ে।
তখন ধ্রুব নির্জন স্থানে বসে কঠোর তপস্যায় লিপ্ত হলেন, তাঁর প্রাণ থেকে আসা সস্নেহ আর সংকল্প নিয়ে ভগবান বিষ্ণুর প্রতি নিবেদন করলেন। শতকোটি বছর ধরে তিনি তপস্যা করলেন। বিষ্ণু মহারাজ তাঁর ভক্তির শক্তি দেখে সন্তুষ্ট হলেন এবং তাঁর কাছে Erscheinungen (দর্শন) দিলেন।
ভগবান বিষ্ণু ধ্রুবকে আশীর্বাদ দিলেন যে সে কখনো কখনো আকাশে একটি নক্ষত্রের রূপে থাকবে, যা চিরকাল পৃথিবীর উত্তরের আকাশে অপরিবর্তিত থাকবে — ধ্রুব নক্ষত্র।
লীলার মূল বিষয়বস্তু:
ভক্তির অটলতা: ধ্রুব ছোট বয়সে নিজের সংকল্প এবং বিশ্বাসে দৃঢ় ছিলেন।
সঙ্কটকালীন ভক্তি: যখন সব দিক থেকে অসহায় ছিলেন, তখনও ভগবান বিষ্ণুর প্রতি তাঁর ভক্তি অটুট ছিল।
ঈশ্বরের অনুগ্রহ: এমন ভক্তিকে ঈশ্বর কখনো ত্রুটির আশ্রয় দেন না, বরং তাঁকে চিরস্থায়ী সম্মান দেন।


