
১. কংসের জন্ম ও স্বভাব
কংস ছিলেন রাজা উগ্রসেনের পুত্র, কিন্তু তিনি নিজের অহংকার ও লোভের কারণে পিতাকে সিংহাসন থেকে বিতাড়িত করে নিজের শাসন কায়েম করেছিলেন।
তিনি অত্যাচারী ও নিষ্ঠুর ছিলেন।
এক ভবিষ্যদ্বাণী শোনেন—দেবকীর অষ্টম সন্তান তাকে হত্যা করবে।
২. দেবকী ও বসুদেবকে কারাগারে বন্দি করা
দেবকী কংসের বোন।
কংস ভয় পেয়ে দেবকী ও বসুদেবকে কারাগারে বন্দি করেন।
প্রতিটি সন্তান জন্মের পর কংস তাকে হত্যা করার চেষ্টা করতেন।
প্রথম সাত সন্তানের বিরুদ্ধে তাঁর পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, কারণ ঈশ্বর তাদের রক্ষা করেন।
৩. শ্রীকৃষ্ণের জন্ম
অষ্টম সন্তান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন মথুরার কারাগারে।
জন্মের রাতেই অলৌকিকভাবে কারাগারের তালা ও শৃঙ্খল খুলে যায়, প্রহরীরা গভীর ঘুমে পড়ে যায়।
বসুদেব শিশুকে ঝুড়িতে তুলে যমুনা নদী পার করে গোকুলে নন্দ-যশোদার কাছে পৌঁছে দেন।
কংস অশুভ শক্তি দিয়ে শিশুকে খুঁজেন, কিন্তু ব্যর্থ হন।
৪. শ্রীকৃষ্ণের ছোটবেলার লীলা
গোকুলে শ্রীকৃষ্ণ গোপাল রূপে বড় হন।
তিনি দুষ্টলীলায় ভরা শিশুকিশোর লীলার মাধ্যমে মথুরার গ্রামবাসী ও গোপদের আনন্দ দেন।
নন্দের বাড়িতে দইফোড়া, মাটির মটকা ভাঙা, গোপীর সঙ্গে বিভিন্ন লীলায় অংশগ্রহণ।
৫. কংসের পরাজয় (কংসবধ)
বড় হয়ে শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় ফিরে আসেন।
কংসকে দণ্ড দেওয়ার জন্য তিনি নানা দানব, অসুর ও অশুভ শক্তিকে নাশ করেন।
শেষে শ্রীকৃষ্ণ কংসকে হত্যা করে মথুরায় শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন।
৬. লীলার শিক্ষা
অন্যায় ও অসত্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
ভক্তদের ঈশ্বর সব সময় রক্ষা করেন।
সত্য, ন্যায় ও ধার্মিকতার বিজয় নিশ্চিত হয়।


