এই জগতে অনেক মানুষ তাদের নিজ নিজ রুচি ও উপলব্ধি অনুসারে ভগবানের উপাসনা করে। কিন্তু আমরা যদি জিজ্ঞাসা করি যে ভগবান শব্দটির অর্থ কি। অবশ্যই আমরা দেখতে পাব বহু মানুষই ভগবান শব্দটির অর্থ বলতে পারবে না। কিন্তু আমাদের অজ্ঞতা দূর করার জন্য শ্রীল পরাশর মুনি এই 'ভগবান' শব্দটির সংজ্ঞা বর্ণনা করেছেন। 'ভগ' অর্থ ঐশ্বর্য্য ও 'বান' অর্থ অধিকারী, যার আছে। ঠিক যেভাবে যার সুন্দর রূপ আছে- আমরা তাকে বলি রূপবান, যার ধন আছে ধনবান, ঠিক তদ্রুপ যিনি 'ভগ' অর্থাৎ ঐশ্বর্যের অধিকারী-তাকে বলে ভগবান। শ্রীল পরাশর মুনি ভগবান শব্দের সংজ্ঞা নির্ণয় করতে গিয়ে বলেছেন-
ঐশ্বর্য্যস্য সমগ্রস্য বীর্যস্য যশসঃ শ্রিয়ঃ। জ্ঞানবৈরাগ্যয়োশ্চৈব ষন্নৎ ভগ ইতিঙ্গনা।।
যার মধ্যে এই ছয়টি গুণ পূর্ণ মাত্রায় বর্তমান, তিনি হচ্ছেন ভগবান- সমস্ত ঐশ্বর্য্য, সমস্ত বীর্য্য, সমস্ত যশ, সমস্ত শ্রী, সমস্ত জ্ঞান এবং সমস্ত বৈরাগ্য। এই জগতে কেউ বড় ধনী হতে পারে, কিন্তু কেউ দাবী করতে পারে না, আমি সমস্ত ধনের মালিক। এই জগতে কেউ বড় জ্ঞানী হতে পারে, কিন্তু সে দাবী করতে পারে না ।
সমস্ত জ্ঞানের অধিকারী। কিন্তু ভগবান সমস্ত ধন, সমস্ত জ্ঞান, সমস্ত সৌন্দর্য্য, সমস্ত যশ, সমস্ত শক্তির অধিকারী, তাই তাঁকে বলা হয় ভগবান।
পরম ব্রহ্ম ভগবান সম্পর্কে বেদান্ত সূত্রের প্রথম শ্লোকে বলা হয়েছে- "অথাতো ব্রহ্ম জিজ্ঞাসা”। সেই পরম ব্রহ্মটি কে? তার উত্তরে দ্বিতীয় শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে 'জন্মাদস্য যতঃ'- এই সুত্রটি শ্রীমদ্ভাগতের শুরুতেই শ্রীল ব্যাসদেব তার শ্লোকে সংযোজন করেছেন-- "জন্মাদস্য যতোহন্বয়াদিতরতশ্চার্থেম্বভিজ্ঞ স্বরাট্” জন্ম আদি অস্য যতঃ- যা হতে এ দৃশ্যমান জগত, অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ড, জন্ম আদি অর্থাৎ সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় হয়-তিনি হচ্ছেন পরম ব্রহ্ম ভগবান।
অহং সর্বস্য প্রভবো মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে। ইতি মত্বা ভজন্তে মাং বুধা ভাবসমন্বিতাঃ।।
ভগবদগীতাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বর্ণনা করেছেন- "অমি সমস্ত কিছুর উৎস ও সবকিছু আমার কাছ থেকে উৎপত্তি হয়েছে'। অর্থাৎ ভগবান হচ্ছেন সবকিছুর স্রষ্টা, সবকিছু পালন করেন এবং তিনি সবকিছু সংহার করতে পারেন।
ভগবান শব্দটি এসেছে সংস্কৃত "ভগ" (অর্থ: ঐশ্বর্য) থেকে।
ভগবানের ছয়টি গুণ বলা হয়:
১. অঐশ্বর্য – অসীম ঐশ্বর্য
২. বীর্য – অসীম শক্তি
৩. যশঃ – অসীম খ্যাতি
৪. শ্রী – সৌন্দর্য
৫. জ্ঞান – পরিপূর্ণ জ্ঞান
৬. বৈরাগ্য – আসক্তিহীনতা
এই ছয় গুণ যাঁর মধ্যে পূর্ণভাবে আছে, তিনিই "ভগবান"।


