অনন্য ভক্তিযোগী ও নির্বিশেষ ব্রহ্ম-উপাসকের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ?
1 answers
25 views
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

꧁◼️প্রশ্ন:১২ অনন্য ভক্তিযোগী ও নির্বিশেষ ব্রহ্ম-উপাসকের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ? (১২/১) ◼️

****শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – দ্বাদশ অধ্যায় – ভক্তিযোগ*****

|অর্জুন উবাচ |

❝ এবং সততযুক্তা যে ভক্তাস্ত্বাং পর্যুপাসতে।
যে চ-অপি-অক্ষরম্-অব্যক্তম্ তেষাং কে যোগবিত্তমাঃ॥ ❞

━┉┈┈(ভগবদ্গী‌তা, ১২/১)

অনুবাদ: “অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন- এভাবেই নিরন্তর ভক্তিযুক্ত হয়ে যে সমস্ত ভক্তেরা যথাযথভাবে তোমার আরাধনা করেন এবং যাঁরা ইন্দ্ৰিয়াতীত অব্যক্ত ব্রহ্মের উপাসনা করেন, তাঁদের মধ্যে কারা শ্রেষ্ঠ যোগী?

|শ্রীভগবানুবাচ|

❝ ময়ি আবেশ্য মনঃ যে মাম্ নিত্যযুক্তাঃ উপাসতে ।
শ্রদ্ধয়া পরয়া-উপেতাঃ-তে মে যুক্ততমাঃ মতাঃ॥২॥ ❞

অনুবাদ: “পরমেশ্বর ভগবান বললেন━ যাঁরা তাঁদের মনকে আমার সবিশেষ রূপে নিবিষ্ট (একাগ্র) করে নিত্য-নিরন্তর আমার ভজন-ধ্যানে নিযুক্ত থাকে এবং অপ্রাকৃত শ্রদ্ধা সহকারে নিরন্তর আমার উপাসনা করেন, আমার মতে তাঁরাই সর্বশ্রেষ্ঠ যোগী।

❝ যে তু-অক্ষরম্-অনির্দেশ্যম্-অব্যক্তম্ পর্যুপাসতে ।
সর্বত্রগম্-অচিন্ত্যম্-চ কুটস্থম্-অচলম্ ধ্রুবম্॥৩॥
সংনিয়ম্য-ইন্দ্রিয়গ্রামম্ সর্বত্র সমবুদ্ধয়ঃ।
তে প্ৰাপ্নুবন্তি মামেব সর্বভূতহিতে রতাঃ॥৪॥ ❞

অনুবাদ: “যাঁরা সমস্ত ইন্দ্রিয় সংযত করে, সকলের প্রতি সমভাবাপন্ন হয়ে এবং সর্বভূতের কল্যাণে মগ্ন হয়ে আমার অক্ষর (যার কখনো কোনো কারণে বিনাশ হয় না), অনির্দেশ্য (কোনো যুক্তি বা উদাহরণ দ্বারা যার স্বরূপ বলা বা বোঝানো যায় না), অব্যক্ত (যাকে ইন্দ্রিয়াদির দ্বারা জানা সম্ভব নয়, যার কোনো রূপ বা আকৃতি নেই), সর্বত্রগ (যিনি আকাশের ন্যায় সর্বব্যাপী), অচিন্ত্য (যিনি চিন্তার অতীত অর্থাৎ যাকে মন-বুদ্ধি দিয়ে জানা যায় না), কুটস্থ (যার কখনও কোনো কারণে পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যিনি  সর্বদা একভাবে থাকে), অচল (যিনি নড়া-চড়া বা চলা-ফেরা ক্রিয়া থেকে সর্বতোভাবে রহিত), ধ্রুব (যা নিত্য এবং নিশ্চিত—অর্থাৎ যার অস্তিত্বে কোনোরূপ সংশয় নেই) ও নির্বিশেষ স্বরূপকে (ব্রহ্মের) উপাসনা করেন, তাঁরা অবশেষে আমকেই প্রাপ্ত হন।

◼️“তাঁরা আমাকেই লাভ করেন”—এই কথাটির কী অভিপ্ৰায় ? ◼️

উত্তর: এই কথায় ভগবান ব্রহ্মকে তাঁর থেকে অভিন্ন বলে জানিয়েছেন। অভিপ্রায় হল যে উপরোক্ত উপাসনার ফল যে নির্গুণ ব্রহ্মের প্রাপ্তি, তা বাস্তবিক আমাকেই প্রাপ্ত হওয়া ; কারণ ব্রহ্ম আমা হতে ভিন্ন নন এবং আমিও ব্রহ্ম থেকে ভিন্ন নই। সেই ব্ৰহ্ম আমিই, এই ভাবার্থ ভগবান চতুর্দশ অধ্যায়ের সাতাশতম শ্লোকে ‘ব্ৰহ্মণো হি প্রতিষ্ঠাহম্’ অর্থাৎ আমি ব্রহ্মের প্রতিষ্ঠা, এই কথায় প্রতিপন্ন করেছেন।

◼️উভয়েরই যখন পরমেশ্বর লাভ হয়, তখন দ্বিতীয় শ্লোকে সগুণ-উপাসকদের (অনন্য ভক্তিযোগীদের) শ্রেষ্ঠ বলার অর্থ কী? ◼️

আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: — একাদশ অধ্যায়ে ভগবান বলেছেন যে অনন্য ভক্তির দ্বারা মানুষ আমাকে দেখতে, তত্ত্বতঃ জানতে এবং লাভ করতে পারে (১১।৫৪)। এর দ্বারা এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, পরমাত্মাকে তত্ত্বতঃ জানা এবং প্রাপ্ত হওয়া – এই দুটি তো নির্গুণ উপাসকের (অর্থাৎ নির্বিশেষ ব্রহ্ম-উপাসকের) পক্ষেও সম্ভব ; কিন্তু নির্গুণ উপাসকদের সগুণ রূপে দর্শন দেওয়ার জন্য ভগবান বাধ্য নন; কিন্তু সগুণ-উপাসকদের (অর্থাৎ অনন্য ভক্তিযোগীদের) ভগবদ্দর্শনও হয়ে থাকে—এই হল তাদের বিশেষত্ব ৷

❝ ভক্ত্যা তু-অনন্যয়া শক্যঃ অহম্-এবং-বিধঃ-অর্জুন।
জ্ঞাতুং দ্রষ্টুম্-চ তত্ত্বেন প্রবেষ্টুম্-চ পরন্তপ॥১১/৫৪॥ ❞

অনুবাদ: “হে পরন্তপ অর্জুন। একনিষ্ঠ ভক্তি দ্বারাই শুধু আমাকে জানতে, প্রত্যক্ষ (দর্শন) করতে এবং প্রাপ্ত করতে অর্থাৎ আমার চিন্ময় ধামে প্রবেশ করতে আমার ভক্তরা সমর্থ হন। অন্য কোন উপায়ে নয়।