না, সাধারণত মাছ-মাংস খেয়ে বিগ্রহ পূজা করা উচিত নয়। হিন্দু ধর্মানুসারে, বিগ্রহ পূজা বা দেব-দেবীর আরাধনার জন্য শুদ্ধ ও সাত্ত্বিক আহার গ্রহণের বিধান রয়েছে। মাছ-মাংস আমিষ খাদ্য যা রজোগুণ ও তমোগুণ সম্পন্ন এবং যা মনের চঞ্চলতা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। তাই, দেব-দেবীর পূজা বা আরাধনার জন্য এটি উপযুক্ত নয়।
আরও বিস্তারিতভাবে, নিম্নলিখিত কারণগুলি উল্লেখ করা যেতে পারে:
শুদ্ধতা:
বিগ্রহ পূজা একটি পবিত্র ও শুদ্ধ কাজ। আমিষ খাদ্য গ্রহণ করলে শরীর ও মন অপবিত্র হয়, যা দেব-দেবীর আরাধনার জন্য উপযুক্ত নয়।
সাত্ত্বিকতা:
হিন্দু ধর্মানুসারে, সাত্ত্বিক খাদ্য (যেমন ফল, দুগ্ধ, শস্য ইত্যাদি) গ্রহণ করা উচিত, যা মনকে শান্ত ও পবিত্র রাখে। আমিষ খাদ্য রজোগুণ ও তমোগুণ বৃদ্ধি করে, যা আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে।
অহিংসা:
অনেক হিন্দু বিশ্বাস করেন যে, জীব হত্যা করা পাপ এবং আমিষ খাদ্য গ্রহণের জন্য পশু হত্যার প্রয়োজন হয়। তাই, অহিংসা পরম ধর্ম এই নীতি অনুসারে, আমিষ খাদ্য পরিহার করা উচিত।
শাস্ত্রীয় বিধান:
বিভিন্ন শাস্ত্রে (যেমন ভাগবত পুরাণ) আমিষ খাদ্য পরিহার করার এবং সাত্ত্বিক খাদ্য গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
অতএব, বিগ্রহ পূজা করার সময় মাছ-মাংস পরিহার করে সাত্ত্বিক খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।
শ্রী বরাহদেব বসুন্ধরা দেবীকে সেবা অপরাধ সম্পর্কে বলেছেন-
♦”মংস্য মাংস ভক্ষণ করিয়া আমার অর্চ্চনা করা কোন ক্রমেই কৰ্ত্তব্য নহে। তাহা করিলে আমি অষ্টাদশ অপরাধ গণ্য করিয়া থাকি ।”
[ বরাহ মহাপুরাণ, অধ্যায় ১১৭, শ্লোক ২১ ]
♦জাল- পাদ, অর্থাৎ হংসাদি জলজ প্রাণি ভক্ষণ করিয়া আমার অর্চ্চনা করা ঊন- বিংশ অপরাধ ।
[ বরাহ মহাপুরাণ, অধ্যায় ১১৭, শ্লোক ২২ ]
♦”বরাহমাংস ভক্ষণ করা, ত্রয়োবিংশ অপরাধ । যদি কেহ সুরাপান করিয়া আমার অর্চ্চনা করে, আমি তাহা চতুর্ব্বিংশ অপরাধ বলিয়া গণনা করিয়া থাকি।”
[ বরাহ মহাপুরাণ, অধ্যায় ১১৭, শ্লোক ২৬,২৭ ]
তাই আমিষভোজী বা জীবহিংসকদের বিগ্রহ অর্চণ করতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা চিত্রপট কিংবা ঘট স্থাপন করে পূজা করতে পারেন। এভাবে ব্যাবহারিক ভক্তি করতে করতে একসময় যখন তাদের ভক্তিতে নিষ্ঠা আসবে,তখন তারা তাদের জিভের লালসা বর্জন করে শুদ্ধ প্রসাদভোজীতে পরিণত হবেন। তখন ভগবানই তাদের সে যোগ্যতা প্রদান করবেন। শুদ্ধ ভক্তরাই কেবল বিগ্রহ অর্চনের অধিকার রাখেন।
আমিষভোজী কিংবা জীবহিংসকদের বিগ্রহ অর্চন নিষিদ্ধ :”বরাহমাংস ভক্ষণ করা, ত্রয়োবিংশ অপরাধ । যদি কেহ সুরাপান করিয়া আমার অর্চ্চনা করে, আমি তাহা চতুর্ব্বিংশ অপরাধ বলিয়া গণনা করিয়া থাকি।” তাই আমিষভোজী বা জীবহিংসকদের বিগ্রহ অর্চণ করতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা চিত্রপট কিংবা ঘট স্থাপন করে পূজা করতে পারেন।


