প্রাচীন কালে মালব রাজ্যের রাজা ছিলেন মহাভক্ত রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। তিনি সর্বদা ভাবনায় মগ্ন থাকতেন — কবে তিনি শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করতে পারবেন। এক রাতে স্বপ্নে তিনি আদেশ পান, "নীলাচল পর্বতের জঙ্গলে একটি বিশেষ কাঠের বিগ্রহ রূপে আমি বিরাজ করছি। আমাকে খুঁজে বের করো।"
তখন শবর জাতির রাজা বিশ্ববাসু প্রতিদিন গভীর জঙ্গলে এক অদ্ভুত কাঠের বিগ্রহের পুজো করতেন, যাকে তিনি "নীলামাধব" নামে ডাকতেন। কিন্তু তিনি কাউকে সেই স্থান দেখাতেন না।
রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন খবর পেয়ে বিশ্ববাসুর কাছে যান, কিন্তু প্রথমে বিফল হন। পরে ভগবানের কৃপায় তিনি সেই পবিত্র কাঠের বিগ্রহ লাভ করেন।
এখানেই শুরু হয় দারুব্রহ্ম লীলা — অর্থাৎ ভগবান নিজে কাঠ (দারু) রূপে আত্মপ্রকাশ করেন। রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন বিগ্রহ গড়ার জন্য বিখ্যাত মিস্ত্রি ডেকে আনেন, যিনি ছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা।
🛠️ বিশ্বকর্মার প্রতিজ্ঞা
তিনি বলেন:
“আমি দরজা বন্ধ করে নির্জনে বিগ্রহ গড়বো। কেউ মাঝে দরজা খুললে আমি কাজ বন্ধ করে চলে যাব।”
২১ দিন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চললেও রানি গন্ধর্বী সেই অপেক্ষা সহ্য করতে না পেরে দরজা খুলে ফেলেন। তখন দেখা গেল — তিনটি অর্ধ-নির্মিত বিগ্রহ:
একজনে হাত নেই, মুখ গোল,
চোখ বিশাল, পা নেই,
রূপও সম্পূর্ণ নয়!
রাজা ব্যথিত হয়ে পড়লেও তখন আকাশবাণী হয়:
“এই রূপই আমার চিরন্তন রূপ — এই ‘দারুব্রহ্ম’ রূপেই আমি জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা রূপে পূজিত হবো!”
🌈 এই লীলার মহিমা
ভক্তি ও শ্রদ্ধার প্রতীক: ভগবান নিজেই অসম্পূর্ণ বিগ্রহে পূর্ণ রূপে বিরাজ করেন, প্রমাণ করেন যে হৃদয়ের ভক্তিই আসল।
সাম্যের বার্তা: ভগবান সকল জাতের, সকল মানুষের — তিনি শবর রাজা বিশ্ববাসুর দ্বারাও পূজিত হন।
🔱 আরও বিখ্যাত লীলাগুলোর নাম (সংক্ষেপে):
রথযাত্রা লীলা — ভগবানের বার্ষিক রথযাত্রা, যেখানে তিনি ভক্তদের সঙ্গে রথে বেরিয়ে পড়েন।
লক্ষ্মী ও জগন্নাথ বিরহ লীলা — রথযাত্রার সময় লক্ষ্মী দেবী বিরহে কষ্ট পান।
চাকাড়া মহোৎসব — ভক্তদের প্রসাদ বিতরণ লীলা।


