ভগবান শিবকে কেনো দেবাদিদেব বলা হয়?
2 answers
43 views
Uzzwal Dhali
Uttam Kumar Roy
+2
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

2 Answers

সনাতন ধর্মে ভগবান শিবকে 'দেবাদিদেব' বলা হয়, যার আক্ষরিক অর্থ হলো—'দেবতাদেরও দেব' বা শ্রেষ্ঠ দেব। তাঁকে এই বিশেষণে ভূষিত করার পেছনে বেশ কিছু আধ্যাত্মিক ও পৌরাণিক কারণ রয়েছে:

১. সৃষ্টির আদি ও অন্ত (মহাকাল)

শিবকে 'অনাদি' ও 'অনন্ত' মনে করা হয়। তিনি জন্ম ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বে। মহাপ্রলয়ের সময় যখন সব কিছু ধ্বংস হয়ে যায়, তখন কেবল শিবই অবশিষ্ট থাকেন। এই আদি ও অন্তহীন সত্তার কারণেই তিনি সকল দেবতার উপাস্য।

২. সমুদ্র মন্থন ও নীলকণ্ঠ

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, সমুদ্র মন্থনের সময় যখন ভয়ংকর 'হলাহল' বিষ উঠে আসে, তখন সৃষ্টি রক্ষায় কোনো দেবতাই এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। তখন শিব সেই বিষ পান করে নিজের কণ্ঠে ধারণ করেন। দেবতাদের রক্ষা করার এই অসীম ত্যাগের জন্য তিনি সকলের উপরে স্থান পান এবং 'দেবাদিদেব' নামে পরিচিত হন।

৩. সকল শক্তির উৎস

শিব কেবল সংহারকর্তা নন, তিনি জ্ঞানের আধার (দক্ষিণামূর্তি), শিল্পের জনক (নটরাজ) এবং যোগের প্রবর্তক (আদিযোগী)। ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর সাথে মিলে তিনি যেমন মহাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষা করেন, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে তাঁকে পরমব্রহ্মের সাকার রূপ মনে করা হয়, যা থেকে অন্যান্য দেবতাদের শক্তির উদ্ভব।

৪. সরলতা ও করুণা (আশুতোষ)

অন্যান্য দেবতাদের তুষ্ট করতে অনেক কঠিন নিয়ম পালন করতে হলেও, শিব খুব সামান্যতেই তুষ্ট হন। তিনি সুর (দেবতা), অসুর এবং সাধারণ মানুষ—সবার প্রতিই সমান দয়ালু। তাঁর এই পক্ষপাতহীন চরিত্র তাঁকে অনন্য উচ্চতা দান করেছে।

৫. লিঙ্গ পুরাণের ব্যাখ্যা

একবার ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে একটি বিশাল জ্যোতির্লিঙ্গ আবির্ভূত হয়। সেই লিঙ্গের আদি ও অন্ত কেউ খুঁজে পাননি। তখন তাঁরা উপলব্ধি করেন যে শিবই পরম সত্তা। এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের পর থেকেই তিনি 'দেবাদিদেব মহাদেব' হিসেবে স্বীকৃত হন।


শিব হলেন ত্যাগের প্রতীক, শক্তির আধার এবং পরম করুণাময়। দেবতাদের বিপদকালে তিনি সবসময় রক্ষাকর্তার ভূমিকা পালন করেছেন বলেই তিনি দেবতাদেরও পরম আরাধ্য বা দেবাদিদেব

Uzzwal Dhali
+1

꧁✸দেবাদিদেব শব্দের অর্থ "দেবতাদেরও দেবতা" বা "সকল দেবতার প্রধান"। ভগবান শিবকে এই নামে ডাকা হয় কারণ তাকে হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান দেবতা হিসেবে গণ্য করা হয় এবং শৈবধর্মের অনুসারীরা তাকে সর্বোচ্চ সত্তা হিসেবে পূজা করে। এছাড়াও, শিবকে সৃষ্টি, স্থিতি (রক্ষা) ও প্রলয়ের (ধ্বংস) দেবতা হিসেবেও কল্পনা করা হয়, যা ব্রহ্মাণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

আরও বিস্তারিতভাবে, এই নামের তাৎপর্য নিচে দেওয়া হল:

  • সর্বোচ্চ সত্তা:

    শিবকে হিন্দুধর্মে সর্বোচ্চ ঈশ্বর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাকে পরম ব্রহ্ম বা মহাদেবও বলা হয়, যার অর্থ "মহান ঈশ্বর"। 

  • সৃষ্টিকর্তা, রক্ষাকর্তা ও ধ্বংসকারী:

    শিবের তিনটি প্রধান রূপ রয়েছে- সৃষ্টি, স্থিতি এবং প্রলয়। তিনি একদিকে যেমন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেন, তেমনি আবার তা রক্ষা করেন এবং প্রয়োজনে ধ্বংসও করেন। এই তিনটি দিকই মহাবিশ্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

  • শৈব ধর্মের প্রধান দেবতা:

    শিবকে শৈব সম্প্রদায়ের প্রধান দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়। শৈবধর্ম হল হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্য, যেখানে শিবকে সর্বোচ্চ সত্তা হিসেবে মানা হয়। 

  • অন্যান্য দেব-দেবীর উপরে স্থান:

    যেহেতু শিবকে সকল দেবতার উপরে স্থান দেওয়া হয়, তাই তাকে দেবাদিদেব বলা হয়। অন্যান্য দেব-দেবী তার অধীনে থেকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। 

  • যোগ ও ধ্যান:

    শিবকে যোগ ও ধ্যানের দেবতাও মনে করা হয়। তার ধ্যানমগ্ন মূর্তি বিশ্বকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেয়। 

এই সমস্ত কারণে, ভগবান শিবকে দেবাদিদেব বা "দেবতাদেরও দেবতা" বলা হয়। 

Uzzwal Dhali
+1