অন্নকূট মহোৎসব (Annakuta Mahotsav) বা গিরিরাজ পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দঘন উৎসব, যা দীপাবলির পরদিন পালিত হয়। এটি মূলত শ্রীকৃষ্ণের গিরিরাজ গোবর্ধনের পূজা ও তাঁর কৃষ্ণভক্তির স্মরণে উদযাপিত হয়।
🪔 অন্নকূটের অর্থ ও তাৎপর্য
"অন্ন" মানে খাবার (বিশেষ করে ভাত), আর "কূট" মানে পাহাড় বা স্তূপ।
এই দিন বহুবিধ প্রসাদ (শাক-সবজি, মিষ্টান্ন, ভাত, রুটি ইত্যাদি) পাহাড়ের মতো সাজিয়ে গোবর্ধন পর্বতের প্রতীকরূপে শ্রীকৃষ্ণকে অর্পন করা হয়।
এই উৎসবটি ভক্তি ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ, যা কৃষ্ণের প্রতি ভক্তদের অর্পণ ও সেবার চূড়ান্ত প্রতীক।
🏔️ ইতিহাস ও পটভূমি
শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ অনুসারে:
গোকুলবাসীরা প্রতি বছর ইন্দ্রদেবকে পূজা করতেন। কিন্তু কৃষ্ণ তাদের বললেন— প্রকৃতপক্ষে গবাদি পশু, কৃষি ও প্রকৃতি আমাদের জীবিকা দেয়, তাই গোবর্ধন পর্বতকেই পূজা করা উচিত।
ইন্দ্র এতে রুষ্ট হয়ে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু করেন। তখন শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ছোট আঙুলে গোবর্ধন পর্বত তুলে সাতদিন ধরে গোকুলবাসীদের রক্ষা করেন।
এই ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর অন্নকূট মহোৎসব পালিত হয়।
🎉 কীভাবে পালিত হয়?
ISCKON ও বিভিন্ন বৈষ্ণব মন্দিরে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সামনে বিশাল পরিমাণে প্রসাদ সাজানো হয়।
গিরিরাজ পর্বতের প্রতীকী রূপে খাদ্যের পাহাড় তৈরি হয়।
গোবর্ধন পরিক্রমা, কীর্তন, নৃত্য, এবং অরতি হয়।
ভক্তরা গোবর্ধন লীলা ও কৃষ্ণের করুণার কথা স্মরণ করে।
📿 ইসকনে অন্নকূট
ইসকন মন্দিরগুলোতে অন্নকূট উৎসব অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালিত হয়।
শত শত ধরণের ভোগ প্রস্তুত করে এক বিশাল অন্নকূট বানানো হয়।
শ্রীকৃষ্ণের গিরিরাজ-লীলা নিয়ে নাটক, কথামালা, ও হরিনাম সংকীর্তন হয়।
অন্নকূট কেবল খাবার প্রদর্শনের উৎসব নয়, এটি শ্রদ্ধা, নির্ভরতা ও ভক্তির চিহ্ন—যেখানে শ্রীকৃষ্ণকে আমাদের জীবনের একমাত্র আশ্রয় হিসেবে মেনে আমরা তাঁর কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।


