শাস্ত্রমতে প্রকৃত কৃপণ ব্যক্তি কে?
1 answers
37 views
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

🟠 শাস্ত্রমতে ‘প্রকৃত কৃপণ’ কে?

‘কৃপণ’ শব্দটি সাধারণভাবে বোঝায় – কঞ্জুস বা লোভী।
কিন্তু বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে কৃপণ হলো যে ব্যক্তি এই দুর্লভ মানবজীবনে ভগবানের সেবা বা আত্মিক উন্নতির চেষ্টা না করে কেবল ভোগ-বিলাসেই সময় নষ্ট করে।

🔷 শ্রীমদ্ভাগবত (৭.৬.১৪) বলছে:

"লভত্বা সুদুর্লভমিদং বহুসম্ভবান্তে
মানুষ্যমর্থদমনিত্যমপি হি ধীরঃ।
তূর্ণং যতেত ন পতেত অনুমৃত্যু যাবৎ
নিঃশ্রেয়সায় বিষয়ঃ খলু সর্বতঃ স্যাত্॥"

বাংলা অর্থ:
এই মানবজীবন বহু জন্মের পরে লাভ হয় এবং এটি খুবই দুর্লভ। যদিও এটি অস্থায়ী, তবুও এটি চূড়ান্ত কল্যাণ (ভগবানের ভজন) অর্জনের জন্য উপযুক্ত। তাই জ্ঞানী ব্যক্তির উচিত, মৃত্যুর আগেই যত দ্রুত সম্ভব আত্মার মুক্তির জন্য চেষ্টা করা। কারণ ইন্দ্রিয়সুখ (ভোগ) তো যেকোনো অবস্থায় পাওয়া যায়।

এই শ্লোক থেকে বোঝা যায় —
যিনি এই মানবজন্মে ভগবানের সেবা বা আত্মিক কল্যাণ অর্জনের চেষ্টা না করে কেবল ইন্দ্রিয়সুখে ডুবে থাকেন, তিনিই ‘কৃপণ’ বা হীনচেতা

🔶 শ্রীমদ্ভাগবদ গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৭ নং শ্লোকে অর্জুন বলেন —

"কার্পণ্য দোষোপহত স্বভাবঃ"
অর্থাৎ, “আমি কৃপণতার দোষে আক্রান্ত হয়েছি।”

এখানে অর্জুন বুঝেছেন, দেহগত মোহ, সিদ্ধান্তহীনতা, এবং ভগবানের প্রতি আত্মসমর্পণ না করতে পারার মানসিকতা আসলে কৃপণতা।

🌿 সংক্ষেপেঃ

প্রকৃত কৃপণ হলেন সেই ব্যক্তি যিনি —

  • ভগবানের কথা চিন্তা না করে কেবল এই দেহ ও ভোগ-লালসায় জীবন নষ্ট করেন।

  • জ্ঞান, সময় বা সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তা ভগবানের সেবা বা আত্মিক উন্নতিতে ব্যবহার করেন না।

  • যিনি বুঝেও ভগবানের পথে না চলেন—তিনি সত্যিকারের কৃপণ।

শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন —

"যে ব্যক্তি আত্মজীবন উপলব্ধির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণ করে না, সে কৃপণ বা দীনচেতা।"