শাস্ত্রমতে মহাদেব শিবের প্রধানত তিনজন স্ত্রীর কথা উল্লেখ পাওয়া যায়, তবে এদেরকে একেক সময়ে একেক রূপে দেখা হয়। এই তিন রূপ আসলে একই আদিশক্তির তিনটি প্রকাশ — অর্থাৎ, শক্তির বিভিন্ন রূপ মাত্র।
🔱 মহাদেব শিবের স্ত্রীরা:
১. সতী (দক্ষযজ্ঞে আত্মবলি দান করেন)
সতী ছিলেন প্রজাপতি দক্ষ ও প্রসূতির কন্যা।
তিনি শিবকে ভালোবেসে বিয়ে করেন, কিন্তু তাঁর পিতা এই বিবাহ মেনে নেননি।
পরবর্তীতে দক্ষযজ্ঞে অপমানিত হয়ে সতী নিজের শরীর ত্যাগ করেন।
সতীর মৃত্যুর পর শিব গভীর শোকে বিভোর হন এবং তাণ্ডব শুরু করেন।
২. পার্বতী (হিমালয়ের কন্যা, সতীর পুনর্জন্ম)
সতীই পরে পার্বতী রূপে জন্মগ্রহণ করেন, হিমালয় ও মেনকার কন্যা হিসেবে।
বহু তপস্যা করে তিনি শিবকে পুনরায় স্বামী হিসেবে লাভ করেন।
পার্বতী রূপে তিনি গৌরী, দুর্গা, অন্নপূর্ণা, কালী ইত্যাদি রূপেও পূজিতা হন।
৩. গঙ্গা (আধ্যাত্মিক স্ত্রীস্বরূপ, মর্ত্যে অবতরণ করেন শিবের জটায়)
অনেক পুরাণ মতে, গঙ্গাদেবী-ও শিবের এক স্ত্রীস্বরূপ বা শক্তির প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়।
তবে গঙ্গা ও শিবের সম্পর্ক বেশিরভাগ সময় আধ্যাত্মিক ও প্রতীকী রূপে বোঝানো হয়।
ভাগীরথের তপস্যায় গঙ্গা মর্ত্যে নেমে আসার সময় শিব তাঁর জটায় ধারণ করেন, যাতে পৃথিবী গঙ্গার প্রবাহ সহ্য করতে পারে।
📚 উপসংহারঃ
➡️ অনেক পুরাণে এদের মধ্যে পার্বতীকেই একমাত্র স্থায়ী ও চিরন্তন পত্নী রূপে গৃহীত করা হয়েছে।
➡️ গঙ্গা ও সতী ছিলেন লীলার অংশ মাত্র, পার্বতী হচ্ছেন শিবের প্রকৃত শক্তিস্বরূপা।


