সনাতন ধর্মে “ওঁ” (ওঁকার বা प्रणव — Pranava) ধ্বনি বা শব্দটি অত্যন্ত পবিত্র, গূঢ় এবং আধ্যাত্মিকভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ববহ। এটি শুধু একটি শব্দ নয় — এটি হলো সমগ্র সৃষ্টির মূল প্রতিধ্বনি, ব্রহ্মাণ্ডের আদি শব্দ (Primordial Sound)।
"ওঁ" (ॐ) শব্দের শাস্ত্রীয় তাৎপর্যঃ
১. বেদ ও উপনিষদের ঘোষণা —
"ওঁ ইত্যেতৎ অক্ষরং ইদং সর্বং"
— মাণ্ডুক্য উপনিষদ 1.1
অনুবাদঃ “ওঁ এই এক অক্ষরই সমগ্র সৃষ্টিকে প্রতিনিধিত্ব করে।”
ওঁ হল ব্রহ্ম বা সর্বোচ্চ চৈতন্যের প্রতীক। এটি হল সত্য, চিত, আনন্দ — তিনটি চেতন স্তরের প্রকাশ।
ওঁ শব্দটি গঠিত তিনটি ধ্বনিতেঃ
A (অ) + U (উ) + M (ম্) = "ওঁ"
ধ্বনি প্রতীক তাৎপর্য অ জাগ্রত অবস্থা বাহ্যিক জগৎ উ স্বপ্ন অবস্থা অন্তর্জগৎ ম্ সুপ্ত/গভীর নিদ্রা অজ্ঞান অবস্থা "চতুর্থ" "তুরীয়" সর্বোচ্চ চৈতন্য, আত্মা, নির্জনতা
এই তিনটি স্তর পেরিয়ে যে "তুরীয়" স্তর, তা হলো আত্মানুভূতি বা মোক্ষ।
কেনো ওঁ ধ্বনি জপ করা হয়?
মন ও হৃদয় শান্ত করে।
ধ্যান ও যোগের জন্য উপযুক্ত।
ঈশ্বরের সাথে যুক্ত করে।
মনের অস্থিরতা দূর করে আত্মিক শক্তি বাড়ায়।
“ওঁ” ধ্বনি সৃষ্টির মূল কম্পন — এতে আধ্যাত্মিক শক্তির কেন্দ্রীভবন হয়।
শাস্ত্র ও মন্ত্রে ওঁঃ
বেদ পাঠ সবসময় "ওঁ" ধ্বনির মাধ্যমে শুরু হয় —
ॐ भूर्भुवः स्वः(গায়ত্রী মন্ত্র)গীতা ৮ম অধ্যায় ত্রয়োদশ অধ্যায়
"ওঁ ইতি একাক্ষরং ব্রহ্ম"
অর্থ: “ওঁ এই একমাত্র অক্ষর ব্রহ্ম স্বয়ং।”
উপসংহারঃ
“ওঁ” হল পরম ব্রহ্মের শব্দরূপ। এটি সৃষ্টির আদিস্বর, আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশের দরজা। হিন্দু ধর্মে ওঁ ধ্বনি শুধু উপাসনার সূচনা নয়, বরং আত্মসাধনার কেন্দ্রবিন্দু।


