ঋষভNot verified
August 6, 2025
হিন্দু শাস্ত্রমতে সমাধি কি?
1 answers
34 views
Asish Biswas
Eva Dhali
Uzzwal Dhali
+3
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer
Uzzwal DhaliVerified
August 6, 2025

সমাধি শব্দটি হিন্দু ধর্মে দুইটি প্রধান অর্থে ব্যবহৃত হয় — একটির অর্থ আধ্যাত্মিক ধ্যান বা চেতনার চূড়ান্ত অবস্থা, এবং অপরটি হলো মৃত্যুর পরে একজন সাধু বা মহাপুরুষের শারীরিক দেহকে বিশেষ রীতি অনুযায়ী স্থায়ীভাবে স্থাপন করার পদ্ধতি। এখানে দ্বিতীয় অর্থে — "সমাধি কাকে বলে" এবং "শাস্ত্রমতে এর গুরুত্ব কী" সেটা আলোচনা করা হলো।


সমাধি (মৃত্যু-পরবর্তী) কী?

📖 সংজ্ঞাঃ

সমাধি বলতে বোঝায়, একজন সিদ্ধ পুরুষ, ত্যাগী সন্ন্যাসী, যোগী বা পরমব্রহ্ম-নিষ্ঠ মহাপুরুষের মৃতদেহকে দাহ না করে, বিশেষভাবে পূজ্য অবস্থায় মাটি, গুহা বা সমাধি গৃহে স্থাপন করাকে। এটিকে "জীবন্ত সমাধি" বা "মহাসমাধি"-ও বলা হয়।


🔍 সমাধি কে পেতে পারেন?

সমাধি দেওয়া হয় সাধারণ মানুষকে নয়, বরং—

  1. সন্ন্যাসী (বৈরাগী)

  2. যোগ সিদ্ধ পুরুষ

  3. পরম বৈষ্ণব বা সাধু

  4. আত্মজ্ঞানী রূপে প্রতিষ্ঠিত গুরু/আচার্য

  5. জীবন্মুক্ত ব্যক্তি — যিনি জীবিত অবস্থায়ই মোক্ষ বা আত্মার পরিপূর্ণ মুক্তি লাভ করেছেন।


📚 সমাধি নিয়ে শাস্ত্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি

১. যোগশাস্ত্র ও গীতা অনুসারে

“যোগী মৃত্যুর সময় শরীর ত্যাগের জন্য স্বেচ্ছায় প্রস্তুত হন। তিনি দেহকে না দাহ করিয়েও সমাধিস্থ হন।”

ভগবদ্গীতা ৮ম অধ্যায় ৫ ও ৬ নং শ্লোকে বলা হয়েছে
অন্তকালে চ মামেব স্মরন্মুক্তা কলেবরম্ ।
যঃ প্রয়াতি স মদ্ভাবং যাতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ ।।

অনুবাদঃ মৃত্যুর সময় যিনি আমাকে স্মরন করে দেহত্যাগ করেন, তিনি তৎক্ষণাৎ আমার ভাবই প্রাপ্ত হন। এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।



যং যং বাপি স্মরন্ ভাবং ত্যজত্যন্তে কলেবরম্ ।
তং তমেবৈতি কৌন্তেয় সদা তদ্ভাবভাবিতঃ ।।

অনুবাদঃ অন্তিমকালে যিনি যে ভাব স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনি সেই ভাবে ভাবিত তত্ত্বকেই লাভ করেন।


২. গরুড় পুরাণ

গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে, সাধুরা দেহ ত্যাগ করলে তাদের জন্য পূজ্য স্থান নির্ধারণ করা হয়, যেন সাধারণ মানুষ তাদের স্মরণ করতে পারে।


৩. শৈব ও যোগ শাস্ত্র

শিবোপাসক যোগীরা চক্র ও প্রাণায়াম নিয়ন্ত্রণ করে এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, যেখানে তাঁরা আত্মার সংযোগকে চূড়ান্ত শক্তিসম্পন্ন কেন্দ্রে (যেমন সহস্রার চক্রে) স্থাপন করেন।

এই অবস্থায় তাঁরা দেহকে পবিত্র স্থানে সমাধিস্থ করতে বলেন — এটিই যোগসমাধি


সমাধি ও দাহ–এর পার্থক্য

বিষয় সমাধি দাহসংস্কার কারা পান সিদ্ধ, সন্ন্যাসী, যোগী সাধারণ গৃহস্থ বা অজ্ঞ প্রক্রিয়া মৃতদেহকে মাটি/গুহায় বসা/শায়িতভাবে রেখে ঢেকে দেওয়া হয় দেহ দগ্ধ করা হয় আগুনে উদ্দেশ্য আত্মার চেতন সংরক্ষণ, স্থান পবিত্রকরণ শরীর নাশ, আত্মা মুক্তি স্থান আশ্রম, গুহা, তীর্থ, মঠ শ্মশান পরিণাম সেখানে তীর্থ হয়, ভক্তরা দর্শন করেন দেহ শেষ, স্মৃতি থাকে


সমাধি স্থলের গুরুত্ব

  • পবিত্র স্থান হয়ে ওঠে (যেমন: শান্তিনিকেতন – রবীন্দ্র সমাধি, কাশী – ত্রৈলঙ্গ স্বামী সমাধি, বৃন্দাবন – রূপ গোস্বামী প্রভৃতি)

  • ভক্তরা তীর্থ হিসেবে পরিভ্রমণ করে

  • আধ্যাত্মিক শক্তি অনুভব করে, দীক্ষা গ্রহণ করে


সমাধির প্রকারভেদ (ধর্ম ও অঞ্চলভেদে)

  1. জীবন্ত সমাধি (Self-willed) – সাধু নিজে জানান কখন ও কোথায় তাঁকে সমাধি দিতে হবে

  2. মৃত্যুর পর সমাধি – মৃত্যুর পর ভক্তরা স্থাপন করেন

  3. সিদ্ধ সমাধি – যেসব স্থানে বহু সাধু সাধনা করে সমাধি নিয়েছেন

  4. গুহা সমাধি – যোগীদের প্রিয়, নির্জন পাহাড় বা গুহায়

  5. রাজসমাধি – কখনো কখনো ধর্মপরায়ণ রাজাদের জন্যও হয় (বিশেষত শৈব ও মারাঠা প্রথায়)


বাংলা ও ভারতের কিছু বিখ্যাত সমাধি:

  • শ্রীল প্রভুপাদ সমাধি মন্দির – মায়াপুর, নবদ্বীপ

  • রামকৃষ্ণ পরমহংস – বেলুড় মঠ

  • স্বামী বিবেকানন্দ – গঙ্গাতীরে

  • ত্রৈলঙ্গ স্বামী – বারাণসী

  • সাঁইবাবা – শিরডি


সমাধি হলো একজন জ্ঞানী বা যোগী পুরুষের জন্য একটি বিশেষ মৃত‍্যু-পরবর্তী আয়োজন, যাতে তাঁর চেতনা, শিক্ষা ও উপস্থিতি দীর্ঘকাল ধরে মানবসমাজে প্রেরণা হিসেবে টিকে থাকে।

Uzzwal Dhali
+1