শাস্ত্রমতে মানুষ হিজরা বা তৃতীয় লিঙ্গে জন্ম নেওয়া মূলত পূর্বজন্মের কর্মফলের ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
হিন্দু শাস্ত্র, বিশেষত মনুস্মৃতি, গরুড় পুরাণ, ভাগবত পুরাণ ইত্যাদিতে বলা হয়েছে — জীবাত্মা তার পূর্বজন্মের কর্ম ও মানসিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী দেহ লাভ করে।
📜 শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
পূর্বজন্মের পাপফল
গরুড় পুরাণে উল্লেখ আছে, যারা পূর্বজন্মে যৌনাচারে অসংযমী, ব্যভিচারী বা যৌন বিকৃত আচরণে লিপ্ত ছিলেন, তারা কর্মফলে তৃতীয় লিঙ্গে জন্ম পেতে পারেন।
অন্যের বিবাহিত জীবন নষ্ট করা, ধর্ষণ, গুরুপত্নী বা নিষিদ্ধ সম্পর্কও এর কারণ বলা হয়েছে।
মানসিক প্রবৃত্তি ও বাসনা
ভাগবত পুরাণ (৬ষ্ঠ স্কন্ধ) বলে, মৃত্যুকালে বা জন্মের সময়কার মনোভাব, বাসনা এবং পূর্বের জীবনের অভ্যাস — নতুন দেহের প্রকৃতি নির্ধারণ করে।
পূর্বজন্মে যদি কারও প্রবৃত্তি মিশ্র বা বিপরীত হয়, তাহলে সেই প্রবৃত্তি অনুযায়ী লিঙ্গ নির্ধারণ হতে পারে।
প্রকৃতির বৈচিত্র্য
মনুস্মৃতি ৩:৪৯-৫০ তে বলা আছে, প্রকৃতি মাঝে মাঝে “নপুংসক” বা “ত্রিতীয় লিঙ্গ” জন্ম দেয়, যা সৃষ্টির স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের অংশ।
সব সময় এটিকে শাস্তি হিসেবে দেখা হয় না, বরং সমাজে তাদেরও বিশেষ ভূমিকা থাকে।
💡 সারমর্ম
শাস্ত্র মতে, তৃতীয় লিঙ্গে জন্ম পূর্বজন্মের কর্ম, মানসিক প্রবৃত্তি ও প্রকৃতির নিয়ম — এই তিনের মিলিত ফল।
তবে ভগবদ্ গীতা শেখায়, বর্তমান জীবনে ভক্তি ও ধর্মপথে চললে, অতীতের কর্মফলও পরিবর্তন করা যায় এবং জীবাত্মা মুক্তির পথে অগ্রসর হতে পারে।


