ভীষ্মদেব মহাভারতের এক মহান চরিত্র। তাঁর আসল নাম ছিল দেবব্রত। তিনি দুইটি প্রধান বর পেয়েছিলেন, যা তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল—
১. পিতার কাছ থেকে (শান্তনু মহারাজ)
যখন গঙ্গাদেবী শান্তনুর সঙ্গে সংসার ছেড়ে চলে যান, তখন শান্তনু সত্যবতীর সঙ্গে বিবাহ করতে চান। কিন্তু সত্যবতীর পিতা বললেন— তাঁর সন্তানই হবে হস্তিনাপুরের রাজা। এতে রাজপুত্র দেবব্রতের (ভবিষ্যৎ ভীষ্ম) অধিকার চলে যাবে। তখন দেবব্রত প্রতিজ্ঞা করলেন:
তিনি কখনো রাজাসনে বসবেন না।
তিনি আজীবন ব্রহ্মচর্য পালন করবেন।
এই প্রতিজ্ঞার ফলে শান্তনু অভিভূত হয়ে তাঁকে “ভীষ্ম” নামে অভিহিত করলেন।
শান্তনু তাঁকে আশীর্বাদ দিলেন—
👉 "তুমি ইচ্ছামৃত্যু লাভ করবে। যখন ইচ্ছা তখনই দেহ ত্যাগ করতে পারবে।"
২. পরশুরামজি ও তাঁর নিজের প্রতিজ্ঞা
ভীষ্মদেব পরশুরামের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং পরশুরামজি তাঁকে অসীম বীরত্ব ও অস্ত্রবিদ্যার বর দিয়েছিলেন। এজন্য তিনি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর ও যোদ্ধা হয়ে উঠেছিলেন।
সারসংক্ষেপ
বর ১: ইচ্ছামৃত্যুর বর (পিতা শান্তনুর কাছ থেকে)।
বর ২: অপরাজেয় বীরত্ব ও অস্ত্রবিদ্যা (গুরু পরশুরামের কাছ থেকে)।
এই দুই বর ভীষ্মদেবকে মহাভারতের এক অদ্বিতীয় মহাপুরুষে পরিণত করে।


