শাস্ত্র অনুযায়ী শ্রীমতী রাধারানীর নাম প্রথম কোথায় এসেছে তা নিয়ে কয়েকটি মত আছে—
📖 ১. ঋগ্বেদে গোপন উল্লেখ
কিছু আচার্য বলেন যে, ঋগ্বেদের মন্ত্রে “আরাধনা” শব্দ থেকে “রাধা” নামের মূল ধারণা পাওয়া যায়। অর্থাৎ যিনি ভগবানের সর্বোচ্চ আরাধনা করেন, তাঁর নাম রাধা।
📖 ২. ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণে স্পষ্ট উল্লেখ
প্রথম স্পষ্টভাবে “রাধা” নাম ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণে (প্রকৃতি খণ্ডে) পাওয়া যায়। এখানে রাধারানীকে কৃষ্ণের আনন্দ–শক্তি, হ্লাদিনী শক্তির মূলরূপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
📖 ৩. গর্গ সংহিতা ও পদ্ম পুরাণে
গর্গ সংহিতা-তেও রাধার নাম ও কৃষ্ণের সঙ্গে তাঁর চিরন্তন লীলার বর্ণনা আছে।
পদ্ম পুরাণে শ্রীমতী রাধাকে “ভক্তিশক্তির আধার” বলা হয়েছে।
📖 ৪. গৌড়ীয় বৈষ্ণব গ্রন্থে বিস্তার
চৈতন্য মহাপ্রভুর সময় থেকে “শ্রী রাধা” নাম বিশেষভাবে পূজিত হতে শুরু করে। রূপ গোস্বামী, রঘুনাথ দাস গোস্বামী প্রমুখ আচার্যরা তাঁর মহিমা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেন।
✨ সারকথা:
আদি বৈদিক সাহিত্যে “আরাধনা” ভাবনা ছিল,
কিন্তু প্রথম স্পষ্টভাবে “রাধা” নাম ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণে পাওয়া যায়।
পরে ভাগবতীয় ও গৌড়ীয় সাহিত্যে তাঁর মাহাত্ম্য সর্বাধিক প্রকাশিত হয়েছে।


