কালীয় নাগ ছিলেন এক শক্তিশালী বিষধর সাপ, যিনি যমুনা নদীর কালিন্দী অংশে বসবাস করতেন। তাঁর কাহিনী ভাগবত পুরাণ (দশম স্কন্ধ) এবং হরিবংশ পুরাণে পাওয়া যায়।
কালীয় নাগের পরিচয়
বাসস্থান – মূলত তিনি রমনক দ্বীপে (আজকের ফিজির মতো দূর সমুদ্রের দ্বীপ) বসবাস করতেন।
শাপপ্রাপ্ত – গরুড় (বিষ্ণুর বাহন) সর্বদা নাগদের গ্রাস করতেন। একসময় কালীয় গরুড়ের হাতে ধরা পড়ে মুক্তি পেতে সেজন্য মুনি শৌভরির আশ্রমে আশ্রয় নেন। শৌভরি মুনি গরুড়কে শাপ দিয়েছিলেন, “যমুনার নির্দিষ্ট অঞ্চলে এলে গরুড় ভস্ম হয়ে যাবে।”
এই কারণে কালীয় সেই যমুনার অংশে এসে বাস করতে শুরু করেন।
বিষধর প্রভাব – কালীয়ের বিষে যমুনার জল কলুষিত হয়ে যায়, চারপাশের বৃক্ষ শুকিয়ে যায়, এমনকি পাখিরাও আকাশে ওড়ে মরতে লাগল।
কৃষ্ণ ও কালীয়ের ঘটনা
গোপবালকেরা বল খেলতে গিয়ে যমুনায় বল পড়লে কৃষ্ণ জলে ঝাঁপ দেন।
কালীয় কৃষ্ণকে আক্রমণ করলে কৃষ্ণ তার ফণার উপর নৃত্য করেন।
কৃষ্ণের পদচিহ্নে কালীয় দমিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে।
কালীয়ের স্ত্রীগণ (নাগপত্নীরা) কৃষ্ণকে প্রার্থনা করেন।
শেষে কৃষ্ণ কালীয়কে রমনক দ্বীপে ফিরে যেতে বলেন এবং আশীর্বাদ দেন, যাতে গরুড় আর তাকে গ্রাস না করে।
মূলত কে ছিলেন?
👉 কালীয় কোনো অভিশপ্ত দেবতা বা ঋষি ছিলেন না, বরং নাগজাতির (সর্পজাতি) একজন শক্তিশালী নাগরাজ। তাঁর পরিচয় হলো—
তিনি নাগলোকে জন্মানো এক বিষধর সাপ।
অহংকার ও বিষধর শক্তির কারণে গরুড়ের শিকার হয়েছিলেন।
মুনি শৌভরির শাপের কারণে যমুনার জলে এসে বাস করছিলেন।


