ষড় গোস্বামী বা বৃন্দাবনের ষড় গোস্বামী বলতে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমপ্রদায়ের ছয়জন মহান আচার্যকে বোঝায়, যাঁরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদর্শ, উপদেশ, ও ভক্তিমত্ধর্মকে শাস্ত্রসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠা করেন এবং বৃন্দাবনের হারানো লীলা-স্থানগুলো পুনরাবিষ্কার করেন।
🌿 ষড় গোস্বামীর নাম
১. শ্রী রূপ গোস্বামী
২. শ্রী সনাতন গোস্বামী
৩. শ্রী জিভ গোস্বামী
৪. শ্রী রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী
৫. শ্রী রঘুনাথ দাস গোস্বামী
৬. শ্রী গোপাল ভট্ট গোস্বামী
🌼 সংক্ষিপ্ত পরিচয়
⭐ ১. রূপ গোস্বামী
গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের মূল শাস্ত্রকার।
ভক্তিরসামৃতসিন্ধু, উজ্জ্বলনীলামণি প্রভৃতি অমূল্য গ্রন্থের রচয়িতা।
ভক্তি-রস, রাগানুগা-ভক্তি—এসব তত্ত্ব স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।
⭐ ২. সনাতন গোস্বামী
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর থেকে শাস্ত্রীয় উপদেশ গ্রহণ করেন প্রথমে।
হরিভক্তিবিলাস–এর প্রধান রচয়িতা।
বৃন্দাবনের বহু লীলা-স্থান পুনরাবিষ্কার করেন।
⭐ ৩. জিভ গোস্বামী
শাস্ত্র-তত্ত্বের মহাগুরু; অত্যন্ত জ্ঞানী।
ষট্সন্দর্ভ গ্রন্থমালা রচনা করেন—গৌড়ীয় দর্শনের ভিত্তিভূমি।
⭐ ৪. রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী
ভক্তি, নাম-সংকীর্তনে অনন্য।
শ্রীমদ্ভাগবতের পাঠে অসামান্য প্রভাব ও ভক্তিভাব জাগ্রত করতেন।
⭐ ৫. রঘুনাথ দাস গোস্বামী
সর্বোচ্চ বৈরাগ্য ও রাধাকৃষ্ণের রাগানুগ ভজনের আদর্শ।
শ্রীমানশিক্ষা তাঁর রচিত।
⭐ ৬. গোপাল ভট্ট গোস্বামী
হরিভক্তিবিলাস–এর সহ-রচয়িতা।
রাধারমণ জিউ বিগ্রহের আবির্ভাব তাঁর মাধ্যমে।
🌺 তাদের প্রধান অবদান
গৌড়ীয় বৈষ্ণব তত্ত্বকে শাস্ত্রসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠা।
বৃন্দাবনের হারানো লীলা-স্থান পুনরুদ্ধার ও মন্দির প্রতিষ্ঠা।
নাম-সংকীর্তন আন্দোলনের ভিত্তি দৃঢ় করা।
অসংখ্য ছন্দ-শাস্ত্র, ভক্তি, রসতত্ত্ব ও আচরণ-শাস্ত্র রচনা।


