দার্শনিক এবং বৈজ্ঞানিক—উভয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই জড় জগতের উপাদানগুলোকে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রাচীন ভারতীয় দর্শন এবং আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী জড় জগতের মূল উপাদানগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পঞ্চভূত বা পঞ্চতত্ত্ব (প্রাচীন দর্শন অনুযায়ী)
প্রাচীন ভারতীয় দর্শন (বিশেষ করে সাংখ্য ও বৈদান্তিক দর্শন) অনুযায়ী, এই দৃশ্যমান জড় জগত পাঁচটি মৌলিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত, যাকে 'পঞ্চভূত' বলা হয়:
ক্ষিতি (মাটি/পৃথিবী): যা কঠিন অবস্থার প্রতীক এবং আমাদের চারপাশের কঠিন বস্তুসমূহ।
অপ (জল): যা তরল অবস্থার প্রতীক।
তেজ (আগুন/আলো): যা তাপ ও শক্তির প্রতীক।
মরুৎ (বায়ু): যা গ্যাসীয় অবস্থার প্রতীক।
ব্যোম (আকাশ/শূন্যতা): যা সবকিছুর আধার বা মহাশূন্য।
২. আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন অনুযায়ী, জড় জগৎ মূলত দুটি প্রধান জিনিসের সমন্বয়ে গঠিত: পদার্থ (Matter) এবং শক্তি (Energy)।
মৌলিক কণা: সব পদার্থই অতি ক্ষুদ্র কণা দিয়ে তৈরি। শুরুতে অণু-পরমাণুকে মূল ভাবা হলেও এখন আমরা জানি যে এগুলো প্রোটন, নিউট্রন এবং ইলেকট্রন দিয়ে গঠিত। আরও গভীরে গেলে পাওয়া যায় কোয়ার্ক এবং লেপটন-এর মতো মৌলিক কণা।
মৌলিক বল: জড় জগতকে ধরে রাখার জন্য চারটি মৌলিক বল কাজ করে: মহাকর্ষ বল, তড়িৎচৌম্বকীয় বল, সবল নিউক্লীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লীয় বল।
মৌলিক পদার্থ: বর্তমানে বিজ্ঞানে ১১৮টি মৌলিক পদার্থ (Elements) শনাক্ত করা হয়েছে (যেমন: হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, লোহা ইত্যাদি), যা দিয়ে মহাবিশ্বের সমস্ত জড় বস্তু তৈরি।
৩. জড় জগতের গুণাবলি
জড় জগতের উপাদানগুলো তিনটি গুণের মিথস্ক্রিয়ায় কাজ করে বলে ধরা হয় (সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক প্রেক্ষাপটে):
১. সত্ত্ব: স্থিতিশীলতা ও সামঞ্জস্য।
২. রজঃ: গতি ও সক্রিয়তা।
৩. তমঃ: জড়তা বা অন্ধকার।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, পরমাণু এবং শক্তিই হলো আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে জড় জগতের মূল কারিগর।


