অর্জুন কেন যুদ্ধ করতে চাইছিল না—এটা মূলত ভগবদ্ গীতা-এর শুরুতেই বলা হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কুরুক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে অর্জুন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেখিয়ে যুদ্ধ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।
১. আত্মীয়-স্বজনকে হত্যা করতে অনিচ্ছা
যুদ্ধক্ষেত্রে সে দেখে দুই পক্ষেই তার গুরু, দাদা, আত্মীয়, বন্ধু আছে—যেমন ভীষ্ম ও দ্রোণ। তাদের হত্যা করা পাপ হবে—এই ভাবনায় সে ভেঙে পড়ে।
২. রাজ্য বা জয় লাভের ইচ্ছা হারিয়ে ফেলা
অর্জুন মনে করে, যদি নিজের লোকজনকেই মেরে রাজ্য পেতে হয়, তাহলে সেই রাজ্য বা সুখের কোনো মূল্য নেই।
৩. পাপের ভয়
নিজের আত্মীয়দের হত্যা করলে তা গুরুতর অধর্ম বা পাপ হবে—এই ভয়ে সে যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াতে চায়।
৪. কুলধর্ম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা
অর্জুন মনে করে, যুদ্ধ হলে অনেক মানুষ মারা যাবে, ফলে পরিবার ও সমাজের কুলধর্ম ও সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যাবে।
৫. করুণা ও মানসিক দুর্বলতা
যুদ্ধের আগে সে প্রচণ্ড দুঃখ ও করুণায় ভেঙে পড়ে। তার হাত কাঁপতে থাকে, ধনুক (গাণ্ডীব) হাত থেকে পড়ে যায়—সে মানসিকভাবে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত ছিল না।
৬. গুরুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ঠিক নয় মনে করা
বিশেষ করে তার শিক্ষক দ্রোণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা তাকে নৈতিকভাবে কষ্ট দিচ্ছিল।
👉 এই অবস্থাতেই কৃষ্ণ তাকে কর্তব্য, ধর্ম ও আত্মার সত্য সম্পর্কে উপদেশ দেন—যা মিলেই ভগবদ্ গীতা।


