পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের জগন্নাথ দেবের মূর্তির অভ্যন্তরে থাকা 'ব্রহ্ম পদার্থ' নিয়ে ভক্তমহলে এবং শাস্ত্রে অনেক রোমাঞ্চকর কাহিনী ও লোকবিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। এর রহস্য আজও বিজ্ঞান বা সাধারণ মানুষের বুদ্ধির অতীত।
ব্রহ্ম পদার্থ সম্পর্কিত প্রধান লোকবিশ্বাস ও রহস্যগুলো হলো —
শ্রীকৃষ্ণের অক্ষয় হৃদয়: সর্বাধিক প্রচলিত বিশ্বাস হলো, শ্রীকৃষ্ণ যখন দেহত্যাগ করেন, অর্জুন তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর শরীরের সব অংশ পঞ্চভূতে বিলীন হলেও হৃদপিণ্ডটি অক্ষত ও জ্বলন্ত অবস্থায় থেকে যায়। সেই স্পন্দিত হৃদয়টিকেই 'ব্রহ্ম পদার্থ' হিসেবে জগন্নাথ দেবের মূর্তির ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।
অতীন্দ্রিয় অনুভূতি: যে সেবায়েতরা (দৈত্যপতি) এই ব্রহ্ম পদার্থ স্থানান্তর করেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত অদ্ভুত। যদিও তাঁরা চোখে দেখেন না, তবুও স্পর্শের মাধ্যমে তাঁরা অনুভব করেন যে এটি একটি জীবিত বস্তুর মতো স্পন্দিত হচ্ছে। কেউ কেউ একে পিচ্ছিল বা কম্পনশীল কোনো বস্তুর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
দৃষ্টিশক্তির ঝুঁকি: লোকবিশ্বাস আছে যে, কোনো সাধারণ মানুষ যদি এই পদার্থটি দেখে ফেলেন, তবে তিনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন অথবা তাঁর মৃত্যু হতে পারে। এই কারণেই হস্তান্তরের সময় সেবায়েতদের চোখ ও হাত মোটা কাপড়ে বেঁধে দেওয়া হয় এবং চারপাশ সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখা হয়।
শালিগ্রাম শিলা বা বুদ্ধের দন্ত: অন্য একটি মতানুসারে, এটি কোনো প্রাচীন শালিগ্রাম শিলা যাতে অসীম মহাজাগতিক শক্তি রয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি সম্রাট অশোকের সময় সংরক্ষিত গৌতম বুদ্ধের দাঁত, যা পরবর্তীকালে জগন্নাথ মূর্তিতে স্থান পায়।
ঐশ্বরিক শক্তি: ভক্তদের বিশ্বাস, এই ব্রহ্ম পদার্থই হলো মহাবিশ্বের চালিকাশক্তি। এটি কেবল একটি বস্তু নয়, বরং ভগবানের জীবন্ত সত্তা যা এক শরীর (পুরনো মূর্তি) থেকে অন্য শরীরে (নতুন মূর্তি) স্থানান্তরিত হয়।
এই রহস্যের কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, কারণ এটি সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। পুরীর মন্দিরের প্রধান সেবায়েতরা এই রহস্যকে পরম নিষ্ঠার সাথে গোপন রাখেন


