চন্দন যাত্রা হলো ওড়িশার পুরী জগন্নাথ মন্দিরের অন্যতম দীর্ঘ এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এটি মূলত গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে ভগবান জগন্নাথকে শীতলতা প্রদান করার একটি আচার।
এই উৎসবটি সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. কখন শুরু হয়?
চন্দন যাত্রা প্রতি বছর অক্ষয় তৃতীয়ায় শুরু হয়। এটি টানা ৪২ দিন ধরে চলে, যা দুটি ভাগে বিভক্ত:
বাহার চন্দন (২১ দিন): এই সময়ে উৎসবের মূল জাঁকজমক দেখা যায়।
ভিতর চন্দন (২১ দিন): এই সময়ের আচার-অনুষ্ঠানগুলো মন্দিরের ভেতরেই সম্পন্ন হয়।
২. উৎসবের প্রধান আচার
চন্দন লেপন: প্রতিদিন ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার বিগ্রহে সুগন্ধি চন্দন বাটা মাখানো হয় যাতে তাঁদের শরীর শীতল থাকে।
জলক্রীড়া: উৎসবের প্রথম ২১ দিন ভগবানের প্রতিনিধি বিগ্রহগুলো (মদনমোহন, ভূদেবী, শ্রীদেবী এবং পঞ্চপাণ্ডব রূপে শিব) মন্দিরের বাইরে নিয়ে আসা হয়। সুসজ্জিত নৌকায় করে তাঁদের নরেন্দ্র সরোবরে বিহার করানো হয়, যাকে 'চাপ খেলা' বলা হয়।
শীতল ভোগ: এই সময়ে ভগবানকে বিশেষ শীতল খাবার ও সুগন্ধি পানীয় নিবেদন করা হয়।
৩. তাৎপর্য
তীব্র গরমে ভগবানকে আরাম দেওয়া এবং ভক্তদের সেবার মনোভাব প্রকাশ করাই এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য। পুরীর রথ তৈরির কাজ এবং চন্দন যাত্রা—উভয়ই অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে শুরু হয়ে উৎসবের আবহে পুরো শহরকে মাতিয়ে রাখে।
আপনি কি আপনার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য এই বিষয়ের ওপর কোনো শিক্ষামূলক কুইজ বা তথ্যমূলক ভিডিও তৈরি করার কথা ভাবছেন?


