ইসকন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় এবং প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ১৯৬৬ সালে নিউ ইয়র্কে একটি ছোট দোকানঘর থেকে যাত্রা শুরু করলেও, আজ এটি সারা বিশ্বে বিস্তৃত।
ইসকনের আকার এবং ব্যাপ্তি সম্পর্কে কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো —
১. বিশ্বব্যাপী মন্দিরের সংখ্যা
সারা বিশ্বে ইসকনের প্রায় ৮৫০টিরও বেশি মন্দির, কেন্দ্র এবং খামার (Farm communities) রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মন্দিরগুলো হলো পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুর, বৃন্দাবন, দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর এবং বিদেশের মধ্যে লন্ডন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও মস্কোর মন্দির।
২. ভক্ত ও অনুসারী
সারা পৃথিবীতে ইসকনের প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি নিবেদিতপ্রাণ সদস্য বা দীক্ষিত ভক্ত রয়েছে। এছাড়া কয়েক কোটি সাধারণ মানুষ এই সংগঠনের আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং নিয়মিত তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।
৩. খাদ্য কর্মসূচি (Food for Life)
তাদের মানবিক সেবা অনেক বড়। ইসকনের অঙ্গসংগঠন 'ফুড ফর লাইফ' প্রতিদিন সারা বিশ্বে প্রায় ১০ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ মানুষকে বিনামূল্যে নিরামিষ প্রসাদ বা খাবার বিতরণ করে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম নিরামিষ খাদ্য সহায়তা প্রকল্প।
৪. প্রকাশনা ও শিক্ষা
বই বিতরণ: ইসকন এ পর্যন্ত বিশ্বের ১০০টিরও বেশি ভাষায় ৫০ কোটিরও বেশি আধ্যাত্মিক বই (বিশেষ করে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা) বিতরণ করেছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: তারা সারা বিশ্বে প্রচুর স্কুল, কলেজ এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষা কেন্দ্র (যেমন- ভক্তিবেদান্ত কলেজ) পরিচালনা করে।
৫. ইকো-ভিলেজ ও পরিবেশ
পরিবেশ রক্ষায় তাদের বড় অবদান রয়েছে। তাদের অনেকগুলো 'ইকো-ভিলেজ' আছে (যেমন মহারাষ্ট্রের গোবর্ধন ইকো-ভিলেজ), যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং টেকসই জীবনযাপনের মডেল হিসেবে কাজ করছে।
৬. মায়াপুরে বিশাল প্রকল্প
পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুরে তারা নির্মাণ করছে 'টেম্পল অফ বৈদিক প্ল্যানেটোরিয়াম' (TOVP), যা সম্পূর্ণ হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় স্থাপনা হবে। এটি ইসকনের বিশ্বব্যাপী প্রশাসনিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।
ইসকন আজ কেবল একটি মন্দির-ভিত্তিক গোষ্ঠী নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক এবং মানবিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।


