ইসকনে (ISKCON) সাধারণত দুই ধরনের প্রধান দীক্ষা প্রদান করা হয়। তবে আধ্যাত্মিক যাত্রার পূর্ণতার জন্য একজন ভক্তকে তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়:
১. হরিনাম দীক্ষা (প্রথম দীক্ষা)
এটি ইসকনের প্রাথমিক দীক্ষা। এই স্তরে গুরু শিষ্যের নাম পরিবর্তন করে একটি আধ্যাত্মিক নাম প্রদান করেন (যে নামের শেষে সাধারণত ‘দাস’ বা ‘দাসী’ যুক্ত থাকে)।
প্রতিজ্ঞা: শিষ্যকে চারটি নিয়ম (আমিষ বর্জন, নেশা বর্জন, অবৈধ সঙ্গ বর্জন এবং দ্যুতক্রীড়া বর্জন) কঠোরভাবে পালনের এবং প্রতিদিন অন্তত ১৬ মালা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপের শপথ নিতে হয়।
তাৎপর্য: এর মাধ্যমে শিষ্য আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সংকীর্তন আন্দোলনে এবং গুরু-শিষ্য পরম্পরায় যুক্ত হন।
২. ব্রাহ্মণ দীক্ষা (দ্বিতীয় দীক্ষা)
প্রথম দীক্ষার অন্তত এক বছর পর, যখন কোনো ভক্ত ভক্তিজীবনে যথেষ্ট নিষ্ঠা ও শাস্ত্রীয় জ্ঞান অর্জন করেন, তখন তাকে এই দীক্ষা দেওয়া হয়।
পদ্ধতি: শিষ্যকে পবিত্র ‘উপবীত’ (পৈতা) প্রদান করা হয় এবং গায়েত্রী মন্ত্রে দীক্ষিত করা হয়।
তাৎপর্য: এই দীক্ষার পর শিষ্য বিগ্রহ সেবা (ঠাকুর ঘরে পূজা) এবং রান্নার মতো সরাসরি সেবার অধিকার লাভ করেন। তাকে আদর্শ ব্রাহ্মণোচিত গুণাবলি ধারণ করতে হয়।
৩. সন্ন্যাস দীক্ষা (উচ্চতর পর্যায়)
এটি সবার জন্য নয়। যারা জীবনকে সম্পূর্ণভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের জন্য উৎসর্গ করতে চান এবং অত্যন্ত উন্নত স্তরের ভক্ত, তাদের এই দীক্ষা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তারা গেরুয়া বস্ত্র ধারণ করেন এবং সংসার ত্যাগ করে আজীবন ব্রহ্মচর্য পালন করেন।
দীক্ষা গ্রহণের যোগ্যতা:
ইসকনে দীক্ষা নিতে হলে সাধারণত কয়েক বছর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়, নির্দিষ্ট কিছু কোর্স (যেমন—ইস্কন ডিসাইপল কোর্স) সম্পন্ন করতে হয় এবং স্থানীয় মন্দিরের অধ্যক্ষের সুপারিশের প্রয়োজন হয়। মূলত কোনো নির্দিষ্ট গুরুর প্রতি পূর্ণ শরণাগতি এবং তাঁর নির্দেশ পালনের ইচ্ছাই দীক্ষার মূল ভিত্তি।


