শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অনুসারে, মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু তার বাইরে কেউ নয়, বরং তার নিজের ভেতরেই অবস্থান করে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের প্রশ্নের উত্তরে এই শত্রুদের চিহ্নিত করেছেন:
১. কাম ও ক্রোধ
তৃতীয় অধ্যায়ের ৩৭ নম্বর শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন:
“কাম এষ ক্রোধ এষ রজোগুণসমুদ্ভবঃ। মহাশনো মহাপাপ্মা বিদ্ধ্যেনমিহ বৈরিণম্।।”
ব্যাখ্যা: রজোগুণ থেকে উৎপন্ন এই কাম (তীব্র বাসনা বা লালসা) এবং ক্রোধ (রাগ)-ই হলো মানুষের পরম শত্রু। কামনার যখন অপূর্ণতা ঘটে, তখনই ক্রোধের জন্ম হয়। এই দুই রিপু মানুষকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে অন্যায়ের পথে চালিত করে।
২. অনিয়ন্ত্রিত মন
ষষ্ঠ অধ্যায়ের ৬ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে যে, যার মন নিজের বশে নেই, তার নিজের মনই তার সাথে শত্রুর মতো আচরণ করে।
যার মন জয় করা হয়েছে, তার কাছে মন শ্রেষ্ঠ বন্ধু।
যার মন অস্থির এবং কুপ্রবৃত্তির বশবর্তী, তার কাছে মনই সবচেয়ে বড় ঘাতক।
৩. নরকের তিন দ্বার
ষোড়শ অধ্যায়ের ২১ নম্বর শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ তিনটি বিশেষ শত্রুর কথা বলেছেন যা মানুষের আত্মাকে ধ্বংস করে দেয়:
কাম (Lust)
ক্রোধ (Anger)
লোভ (Greed)
এই তিনটি দোষকে 'নরকের দ্বার' বলা হয়েছে। এগুলো মানুষের বিবেককে অন্ধকার করে দেয় এবং তাকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়।
কেন এরা শত্রু?
জ্ঞানের শত্রু: ধোঁয়া যেমন আগুনকে ঢেকে রাখে, এই কাম-ক্রোধ তেমনি মানুষের বিবেক ও জ্ঞানকে ঢেকে দেয়।
অতৃপ্ত অনল: আগুনের শিখায় ঘি ঢাললে যেমন তা আরও দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে, মানুষের কামনাও ঠিক তেমনই; একে ভোগ করে কখনো শান্ত করা যায় না।
সমাধান: গীতা শিক্ষা দেয় যে, মন ও ইন্দ্রিয়গুলোকে সংযমের মাধ্যমে জয় করাই হলো এই অভ্যন্তরীণ শত্রুদের পরাজিত করার একমাত্র উপায়। নিজের বুদ্ধিকে স্থির করে নিষ্কাম কর্মের পথে চললে এই শত্রুরা আর ক্ষতি করতে পারে না।


