হিন্দুধর্মে ভগবান বিষ্ণুর দশটি প্রধান অবতারকে একত্রে 'দশাবতার' বলা হয়। গরুড় পুরাণ ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী এই দশটি অবতার হলো -
১. মৎস্য অবতার: প্রলয়ের হাত থেকে সৃষ্টির বীজ এবং বেদ রক্ষা করার জন্য বিষ্ণু মাছের রূপ ধারণ করেছিলেন।
২. কূর্ম অবতার: সমুদ্র মন্থনের সময় মন্দার পর্বতকে পিঠে ধারণ করার জন্য তিনি কচ্ছপের রূপ নেন।
৩. বরাহ অবতার: হিরণ্যাক্ষ নামক অসুর যখন পৃথিবীকে পাতালপুরীতে লুকিয়ে রেখেছিলেন, তখন বিষ্ণু বন্য বরাহ সেজে পৃথিবীকে উদ্ধার করেন।
৪. নৃসিংহ অবতার: হিরণ্যকশিপুকে বধ করে ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করতে তিনি অর্ধেক সিংহ ও অর্ধেক মানুষের রূপ ধারণ করেছিলেন।
৫. বামন অবতার: বলি রাজার দর্প চূর্ণ করতে এবং স্বর্গরাজ্য দেবতাদের ফিরিয়ে দিতে তিনি খর্বকায় বামন ব্রাহ্মণের রূপ নেন।
৬. পরশুরাম অবতার: অত্যাচারী ও অহঙ্কারী হাইহেয় বংশীয় ক্ষত্রিয়দের বিনাশ করে পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের জন্য তিনি কুঠারধারী পরশুরাম হিসেবে আবির্ভূত হন।
৭. রাম অবতার: ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবণকে বধ করে আদর্শ সমাজ ও 'রামরাজ্য' প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি রাম রূপে জন্ম নেন।
৮. বলরাম অবতার: শ্রীকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হিসেবে তিনি শেষনাগের অবতার বলে পরিচিত। (কিছু কিছু তালিকায় বলরামের পরিবর্তে বুদ্ধদেবকে নবম অবতার ধরা হয়)।
৯. কৃষ্ণ অবতার: দ্বাপর যুগে কংস বধ এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে ধর্ম সংস্থাপনের জন্য তিনি পূর্ণাবতার রূপে আবির্ভূত হন।
১০. কল্কি অবতার: কলিযুগের শেষে অধর্ম বিনাশ করে পুনরায় সত্যযুগ প্রতিষ্ঠার জন্য ভগবান বিষ্ণু কল্কি রূপে অবতীর্ণ হবেন বলে বিশ্বাস করা হয় (এটি ভবিষ্যতের অবতার)।
মতভেদে জয়দেব গোস্বামীর 'দশাবতার স্তোত্রম্'-এ বলরামের পরিবর্তে গৌতম বুদ্ধকে নবম অবতার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বলরামকে শ্রীকৃষ্ণেরই অংশ বা শেষনাগের রূপ হিসেবে দেখা হয়।


