হরে কৃষ্ণ ।। ( কৃষ্ণপ্রেম এবং কাম )
প্রেম কি ?
কৃষ্ণের প্রতি অহৈতুকী ও অপ্রতিহতা সেবা হল ভক্তি । আর ভক্তির সর্বোচ্চ স্তর হল প্রেম।
তাহলে জগতে অহরহ যে প্রেম এর কথা শুনি সেটা কি?
এটা কাম!!!!!!
প্রেম এর সম্পূর্ণ বিপরীত হল কাম।
অহৈতুকী অর্থাৎ কোন কারণ ব্যাতিরেকে সেবা মনোভাব
অপ্রতিহতা অর্থাৎ এই মনোভাব কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে নাহ
কাম এর ক্ষেত্রে দেখতে পারি সেবা হয় সবসময় স্বার্থপর মনোভাব নিয়ে।।
চাকর তার মালিক সন্তুষ্ট করতে চায় বেতনের জন্য , প্রেমিক তার প্রেমিকাকে সেবা করে নিজে তার দেহ,অর্থ,কিংবা ক্ষমতা ভোগের জন্য , সকাম কর্মীরা দেবতার পূজা করে সম্পত্তি , তন্ত্র শক্তি ইত্যাদি অভিলাষ পূরণের আশায়... তাই এগুলো অহৈতুকী নয়।।
অভিলাষ পুরণ না হলে কিংবা স্বার্থে আঘাত লাগলে এই সকল কামুক ব্যাক্তি সেবা তাদের সেবা বন্ধ করে দেয়.........তাই এগুলো অপ্রতিহতা নয়...আর পরীশেষে মৃত্যু এসকল সম্পর্কের বিনাশ করে।। তারপর জীব আবার মানুষ নয়ত অন্য প্রাণী রুপে জন্ম নেয় এবং নতুন সম্পর্ক স্থাপন করে।।
ভগবানের সেবা বাঞ্ছা ব্যাতিত যেকোনো কামনা বাসনাই হল কাম।।
অপরদিকে একজন শুদ্ধ কৃষ্ণভক্ত সর্বদা নিষ্কাম।। তিনি কর্ম করেন সর্বদা শুধু কৃষ্ণের প্রীতিবিধানের জন্য। সুখ,দুঃখ যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি কৃষ্ণের কাছে শুধু ভক্তি ও সেবা
সুযোগ প্রার্থনা করেন।। এমনই মৃত্যুর পরেও তার এই সেবা চলমান থাকে।।
এভাবে কৃষ্ণপ্রেম এবং তুচ্ছ কামের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।।
এখন পাঠক ভাবতে পারেন যে তাহলে সমাজে কথিত সকল মানুষই তো তাহলে কামুক...হা তা সত্য ।।আমরা শুদ্ধ নই একারণেই দুঃখ কষ্ট ভোগ করছি।। কিন্তু আমরা যেহেতু সত্যকে জানার সৌভাগ্য অর্জন করেছি তাই আমাদের এর সুযোগ নিতে হবে...এবং যুক্তবৈরাগ্যের অনুশীলন করতে হবে...আপনি যদি এখন না করে ভবিষ্যতে আপনি হয়ত সুযোগ নাও পেতে পারেন...আর ভক্তি না করলে পরবর্তী জন্মে মানব দেহ লাভ হবে নাহ।।
তাই আবার ৮৪০০০০০ টি জীব দেহে কোটি বছর ধরে
আবার দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে হবে
আরেকটি মানব জন্ম লাভের জন্য।।
তাই দয়াপুর্বক সচেতন হোন এবং এই দুর্লভ মানবজন্মের সদ্ব্যবহার করুন ।।
হরে কৃষ্ণ...


