কলিযুগে কেনো হরিনাম সংকীর্তনকে মুক্তির সহজ পথ বলা হয়?
1 answers
9 views
Dip Kar
+1
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer
Dip KarVerified
August 22, 2026

বৈদিক শাস্ত্র ও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর দর্শন অনুযায়ী, কলিযুগে মানুষের জীবনধারণ ও মানসিক ক্ষমতা পূর্ববর্তী যুগগুলোর (সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর) চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই এই যুগের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করেই হরিনাম সংকীর্তনকে মুক্তির সহজতম পথ বলা হয়েছে।

​যুগের উপযোগী সহজসাধ্যতা: সত্যযুগে কঠিন ধ্যান, ত্রেতায় জটিল মহাযজ্ঞ এবং দ্বাপরে বিপুল আয়োজন করে দেবপূজা করতে হতো। কিন্তু কলিযুগে মানুষের আয়ু স্বল্প, মন চঞ্চল, খাদ্য ও স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি এবং শাস্ত্রীয় জ্ঞান সীমিত। এই পরিস্থিতিতে হরিনাম সংকীর্তনের জন্য কোনো জপ-তপ, অর্থ ব্যয় বা কঠিন কোনো শারীরিক নিয়মের প্রয়োজন হয় না।

​অধিকার ও সাম্যবাদ: বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান বা জটিল যজ্ঞ করার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা, স্থান ও সূচিতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু নামসংকীর্তনে ধনী-দরিদ্র, পণ্ডিত-মূর্খ, জাতি বা বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো সময়ে কেবল উচ্চারণ বা শ্রবণ করেই নাম জপ করা যায়।

​মন ও চিত্তের শুদ্ধি: বৈষ্ণব দর্শনে বলা হয়েছে—“চেতো-দর্পণ-মার্জনম্”। কলিযুগের মানুষের মন অসৎ চিন্তা, হিংসা ও অহংকারে আচ্ছন্ন থাকে। উচ্চকণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন করলে তা মানুষের হৃদয়ের সমস্ত ধূলিমলিনতা ধুয়ে-মুছে মনকে পবিত্র করে তোলে।

​শব্দব্রহ্মের প্রত্যক্ষ প্রভাব: ঈশ্বরের 'নাম' এবং 'ঈশ্বর' স্বয়ং অভিন্ন। নামসংকীর্তন হলো ঈশ্বরের নাম-রূপী শব্দব্রহ্মের প্রকাশ। কলিযুগের কলুষিত পরিবেশে কেবল নাম উচ্চারণের মাধ্যমে সৃষ্ট কম্পন মনের একাগ্রতা এনে দেয় এবং ঈশ্বরপ্রেম লাভ সহজ করে।

​সংক্ষেপে, অন্যান্য যুগে যা পেতে যুগ যুগ ধরে কঠোর সাধনা করতে হতো, কলিযুগে কেবল ভক্তিভরে জপ বা সংকীর্তনের মাধ্যমেই সেই মোক্ষ ও ঈশ্বরপ্রেম লাভ সম্ভব—একারণেই এটি কলিযুগের শ্রেষ্ঠ ও সহজ পথ।

ইমন দেব নাথ
+1