সনাতন ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী শিব ও কৃষ্ণের সম্পর্ককে মূলত দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হয়:
১. পরম তত্ত্ব বা আধ্যাত্মিক দিক থেকে (তাঁরা সম্পূর্ণ এক ও সমান)
বেদ ও উপনিষদের সিদ্ধান্ত: ঈশ্বর বা পরম ব্রহ্ম এক। যখন তিনি সৃষ্টি করেন তখন ব্রহ্মা, পালন করার সময় বিষ্ণু (বা কৃষ্ণ) এবং সংহারের সময় শিব রূপ নেন। রূপ আলাদা হলেও ভেতরের শক্তি একই।
হরিহর রূপ: সনাতন ধর্মে 'হরিহর' রূপের পূজা করা হয়, যার অর্ধেক শরীর বিষ্ণুর (কৃষ্ণের) আর অর্ধেক শিবের। এটি প্রমাণ করে যে তাঁরা আসলে অভিন্ন।
গীতার বাণী: গীতার ১০ম অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন, "রুদ্র বা শিবদের মধ্যে আমিই হলাম শঙ্কর।"
২. লীলা বা রূপের দিক থেকে (সূক্ষ্ম পার্থক্য)
পুরাণ এবং বৈষ্ণব শাস্ত্র (যেমন শ্রীমদ্ভাগবত বা চৈতন্য চরিতামৃত) অনুযায়ী লীলা প্রকাশের সুবিধার্থে তাঁদের সম্পর্ককে "দুধ ও দই"-এর উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে:
দুধ থেকে যেমন দই তৈরি হয় (উপাদান একই), তেমনি কৃষ্ণ থেকেই শিবের প্রকাশ।
শিব হলেন কৃষ্ণের গুণাবতার। তিনি তামসিক গুণের নিয়ন্তা হলেও নিজে সম্পূর্ণ গুণাতীত বা পবিত্র।
শাস্ত্রে শিবকে বলা হয়েছে "বৈষ্ণবানাং যথা শম্ভুঃ"—অর্থাৎ তিনি কৃষ্ণের শ্রেষ্ঠ ভক্ত। আবার অন্যদিকের লীলায় শ্রীকৃষ্ণ নিজে শিবের আরাধনা করেছেন।
এক লাইনে সারকথা:
তত্ত্বের দিক থেকে শিব ও কৃষ্ণ সম্পূর্ণ সমান এবং এক (অভিন্ন)। কেবল জগতের লীলা পরিচালনার জন্য তাঁরা দুটি আলাদা রূপ ধারণ করেছেন। তাই সনাতন ধর্ম অনুযায়ী শিব ও কৃষ্ণের মধ্যে ছোট-বড় বা কোনো ভেদাভেদ করা উচিত নয়।


