গৌড়ীয় বৈষ্ণব কারা?
1 answers
32 views
Uzzwal Dhali
Dip Kar
ইমন দেব নাথ
+5
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম (বা চৈতন্য বৈষ্ণবধর্ম) হলো সনাতন হিন্দুধর্মের একটি অন্যতম প্রধান ভক্তি আন্দোলন, যা মূলত ১৬শ শতাব্দীতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর (১৪৮৬–১৫৩৪) শিক্ষা ও দর্শনের ওপর ভিত্তি করে বাংলায় (ঐতিহাসিক গৌড় অঞ্চল) বিকশিত হয়েছিল। এই মতবাদের অনুসারীদেরই গৌড়ীয় বৈষ্ণব বলা হয়।

গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের মূল বিশ্বাস, দর্শন এবং জীবনযাত্রার প্রধান দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. প্রধান উপাস্য ও দর্শন

শ্রীকৃষ্ণই পরম ঈশ্বর: গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতে শ্রীকৃষ্ণ কেবল বিষ্ণুর অবতার নন, বরং তিনি নিজেই স্বয়ং ভগবান ('কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ম্')।

রাধাকৃষ্ণ তত্ত্ব: রাধা ও কৃষ্ণের যুগল উপাসনা এই দর্শনের প্রাণ। রাধাকে কৃষ্ণের হ্লাদিনী শক্তি বা পরম প্রেমের মূর্ত প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।

অচিন্ত্য-ভেদাভেদ তত্ত্ব: এই দর্শনের মূল ভিত্তি হলো জীবাত্মা ও পরমাত্মার (কৃষ্ণ) সম্পর্ক একই সাথে অভেদ (এক) এবং ভেদ (পৃথক)। এই রহস্য মানুষের সাধারণ বুদ্ধির অগম্য বা অচিন্ত্য।

২. সাধনার মূল মাধ্যম: নামসংকীর্তন

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রচার করেছিলেন যে কলিযুগে ঈশ্বর লাভের বা মোক্ষ অর্জনের সবচেয়ে সহজ ও প্রধান মাধ্যম হলো হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করা:

"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে

হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে"

তারা উচ্চৈঃস্বরে দলগতভাবে গান গেয়ে (সংকীর্তন) এবং জপমালার সাহায্যে নীরবে (জপ) ভগবানের নাম স্মরণ করেন।

৩. গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের জীবনধারা ও নীতি

গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মে দীক্ষিত ভক্তরা চারটি মূল নিয়ম বা স্তম্ভ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন:

অহিংসা: কোনো প্রকার মাংস, মাছ বা ডিম আহার না করা (সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী)।

নেশামুক্তি: চা, কফি, তামাক বা অ্যালকোহলসহ সব ধরনের মাদক বর্জন করা।

পবিত্রতা: বিবাহ-বহির্ভূত বা অবৈধ যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা।

জুয়া ও অনৈতিক অর্থ উপার্জন বর্জন: সব ধরনের জুয়াখেলা বা লটারি এড়িয়ে চলা।

৪. ঐতিহ্য ও বিস্তার

ছয় গোস্বামী: শ্রীচৈতন্যের নির্দেশে রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, জীব গোস্বামী, রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী, গোপাল ভট্ট গোস্বামী এবং রঘুনাথ দাস গোস্বামী—এই ছয় জন সনাতন পণ্ডিত বৃন্দাবনে গিয়ে গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের তাত্ত্বিক ও শাস্ত্রীয় ভিত্তি গড়ে তোলেন।

ইসকন (ISKCON): বিংশ শতাব্দীতে এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ এই গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন ও হরেকৃষ্ণ আন্দোলনকে 'ইসকন'-এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেন, যার ফলে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ এই মতবাদের অনুসারী।

তাই সংক্ষেপে বলা যায়, যারা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রদর্শিত পথে রাধাকৃষ্ণের ভক্তিকে জীবনের পরম লক্ষ্য মনে করেন এবং নামসংকীর্তনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনা করেন, তারাই গৌড়ীয় বৈষ্ণব।

Uzzwal Dhali
Dip Kar
ইমন দেব নাথ
+3