সনাতন ধর্মে শ্রী গণেশকে ‘সিদ্ধিদাতা’ বলা হয় কারণ তিনি সকল কাজের সফলতা, বাধা মুক্তি এবং শুভ সূচনার দেবতা। ‘সিদ্ধি’ শব্দের অর্থ হলো সাফল্য, পারদর্শিতা বা আধ্যাত্মিক পূর্ণতা, আর ‘দাতা’ শব্দের অর্থ যিনি দান করেন। অর্থাৎ, যিনি যেকোনো কাজে সাফল্য বা সিদ্ধি প্রদান করেন, তিনিই সিদ্ধিদাতা।
তাকে এই নামে ডাকার মূল কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. বিঘ্ননাশকারী বা বিঘ্নেশ্বর
গণেশের অন্যতম একটি নাম 'বিঘ্নহর্তা'। যেকোনো শুভ কাজ শুরু করার আগে গণেশের পূজা করা নিয়ম। বিশ্বাস করা হয় যে, আন্তরিকভাবে তার আরাধনা করলে কাজের পথের সমস্ত বাধা-বিপত্তি দূর হয়ে যায় এবং কাজটি নির্বিঘ্নে সফল বা 'সিদ্ধ' হয়।
২. জ্ঞান ও বুদ্ধির দেবতা
শ্রী গণেশ কেবল শক্তির দেবতা নন, তিনি পরম জ্ঞান ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধির প্রতীক। যেকোনো কাজে সফল হতে গেলে সঠিক বুদ্ধি এবং বিবেচনার প্রয়োজন হয়। গণেশ তার ভক্তদের সেই সৎবুদ্ধি দান করেন, যা তাদের সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়।
৩. সিদ্ধি ও বুদ্ধির পতি
পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, প্রজাপতি বিশ্বরূপের দুই কন্যা হলেন 'সিদ্ধি' (সাফল্য/আধ্যাত্মিক ক্ষমতা) এবং 'বুদ্ধি' (প্রজ্ঞা)। শ্রী গণেশ এই দুজনের স্বামী। যেহেতু সিদ্ধি দেবী স্বয়ং তাঁর অর্ধাঙ্গিনী, তাই গণেশকে সিদ্ধির অধিপতি বা 'সিদ্ধিদাতা' বলা অত্যন্ত স্বাভাবিক।
৪. অগ্রপূজ্য দেবতা
দেবতাদের মধ্যে গণেশকে 'অগ্রপূজ্য' (যাঁর পূজা সবার আগে করা হয়) হওয়ার বর দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা শুরু, গৃহপ্রবেশ, বিয়ে বা যেকোনো নতুন যাত্রা শুরুর আগে গণেশ বন্দনা করা হয়, যাতে সেই উদ্যোগটি সিদ্ধি লাভ করে।
সংক্ষেপে: হিন্দু শাস্ত্রমতে, কর্মের শুরুতেই শ্রী গণেশের স্মরণ নিলে মনের অহংকার দূর হয়, বুদ্ধি বিকশিত হয় এবং কাজের সমস্ত অন্তরায় কেটে গিয়ে পরম সাফল্য বা সিদ্ধি লাভ হয়। এই কারণেই তিনি পরম শ্রদ্ধায় ‘সিদ্ধিদাতা গণেশ’ নামে পরিচিত।


