দেবতারা ভগবানের শক্তিশালী প্রতিনিধি; কিন্তু সর্বোচ্চ পূজ্য একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ। শাস্ত্র: ভগবদ্গীতা ১০.৮
"অহং সর্বস্য প্রভবঃ..."
শ্রীকৃষ্ণই পরমেশ্বর, সকল অবতারের উৎস এবং সকল কারণের কারণ।
অন্য দেবদেবীরা ঈশ্বর নন, বরং ভগবানের শক্তিশালী প্রতিনিধি বা অধীনস্থ দেবতা, যাঁরা বিশ্ব পরিচালনার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
শাস্ত্রপ্রমাণ:
"মত্তঃ পরতরং নান্যৎ কিঞ্চিদস্তি ধনঞ্জয়।"
— ভগবদ্গীতা ৭.৭
অর্থ: "হে অর্জুন, আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই।"
আরও বলা হয়েছে—
"অহং সর্বস্য প্রভবো মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে।"
— ভগবদ্গীতা ১০.৮
অর্থ: "আমিই সবকিছুর উৎস; সবকিছু আমার থেকেই প্রকাশিত হয়েছে।"
তাহলে দেবদেবী কেন?
একটি সহজ উদাহরণ:
একটি রাষ্ট্রে একজন রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন, কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিচালনার জন্য অনেক মন্ত্রী থাকেন। রাষ্ট্রপ্রধান সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব, আর মন্ত্রীরা তাঁর অধীনে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করেন।
ঠিক তেমনি—
শ্রীকৃষ্ণ সর্বোচ্চ পরমেশ্বর।
ব্রহ্মা সৃষ্টি করেন।
শিব সংহারের দায়িত্ব পালন করেন।
ইন্দ্র বৃষ্টি ও দেবলোকের প্রশাসন দেখেন।
সূর্য আলো ও তাপ প্রদান করেন।
অন্যান্য দেবদেবীরও নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে।
ভগবদ্গীতা ৯.২৩-এ শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে, যারা অন্য দেবতাদের পূজা করেন, তারাও শেষ পর্যন্ত তাঁকেই পূজা করেন, তবে শাস্ত্রসম্মত পূর্ণ জ্ঞান ছাড়া।
উপসংহার (ইসকন দর্শন অনুযায়ী):
অনেক দেবদেবী আছেন, কারণ তাঁরা বিশ্বপরিচালনার বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত। কিন্তু সর্বোচ্চ উপাস্য একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ, এবং অন্য দেবদেবীরা তাঁরই ভক্ত, শক্তি বা প্রতিনিধি। তাই গৌড়ীয় বৈষ্ণব শাস্ত্র অনুসারে কৃষ্ণভক্তি সর্বোচ্চ সাধনা হিসেবে বিবেচিত হয়।


