সনাতন ধর্মে এবং বিশেষ করে বৈষ্ণব ঐতিহ্য অনুসারে, দশমী বিদ্ধা একাদশী (যা দশমী সংযুক্ত একাদশী নামে পরিচিত) পালন না করে শুদ্ধা একাদশী বা মহাদ্বাদশী পালন করার বিধান রয়েছে।
এর পেছনে বেশ কিছু পৌরাণিক, ধর্মীয় এবং সূক্ষ্ম জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক কারণ রয়েছে:
১. অসুর শক্তির প্রভাব ও পৌরাণিক কারণ
পদ্মা পুরাণ ও স্কন্দ পুরাণ অনুযায়ী, একাদশী দেবীর জন্ম হয়েছিল ভগবান বিষ্ণুর অঙ্গ থেকে অসুর মোড়কে বধ করার জন্য।
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, একাদশী ব্রত পালনের অপার মহিমা দেখে অসুরেরা একাদশীর পবিত্রতা নষ্ট করার চক্রান্ত করে। তারা একাদশীর আগের দিন অর্থাৎ দশমীতে গিয়ে একাদশীর শক্তির কিছুটা অংশ প্রভাবিত বা দূষিত করে। বৈষ্ণব শাস্ত্রে বলা হয়, সূর্যোদয়ের সময় যদি দশমী তিথির সামান্য অংশও স্পর্শ করে থাকে, তবে সেই একাদশীতে অসুরের বা 'দৈত্যদের' প্রভাব বিদ্যমান থাকে। তাই একে "দৈத்திய একাদশী" বলা হয়, যা পালন করলে পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না এবং পাপস্পর্শের ভয় থাকে।
২. অরুণোদয় ও "সূর্যোদয়" বিধান
শাস্ত্রমতে, একাদশী ব্রত সফল হতে হলে ব্রতের দিন সূর্যোদয়ের পূর্বে অরুণোদয়কালে (সূর্যোদয়ের প্রায় ১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট আগে বা ২ মুহূর্ত পূর্বে) একাদশী তিথি বিদ্যমান থাকতে হবে।
যদি অরুণোদয় বা সূর্যোদয়ের সময় দশমী তিথির সামান্য অবশিষ্টাংশও (এমনকি কয়েক সেকেন্ড বা পলক হলেও) থাকে, তবে শাস্ত্রমতে সেই একাদশী "বিদ্ধা" বা দূষিত হয়ে যায়। একেই দশমী সংযুক্ত একাদশী বলে।
৩. বিশুদ্ধতা ও সাাত্ত্বিক ব্রত পালন
দশমী তিথিটি মূলত রাজসিক বা কিছুটা তামসিক শক্তির প্রতীক, আর একাদশী হলো পরম সত্ত্বগুণের প্রতীক।
দশমী বিদ্ধা একাদশী পালন করলে ব্রতের প্রকৃত ফল পাওয়া যায় না, বরং তা শরীরের কান্তি হ্রাস ও পুণ্যের ক্ষয় ঘটায় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
তাই বিশুদ্ধ সনাতন ও বৈষ্ণব পঞ্জিকা অনুযায়ী, যদি একাদশীর দিন সূর্যোদয়ে দশমী থাকে, তবে সেই দিন উপবাস না করে তার পরের দিন (দ্বাদশী মিশ্রিত একাদশী) ব্রত পালন করা হয়।
সংক্ষেপে
শ্রীল রূপ গোস্বামী তাঁর হরিভক্তিবিলাস গ্রন্থে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, "দশমীবিদ্ধা তু যা বিপ্র ন কর্তব্যা কদাচন"— অর্থাৎ, হে ব্রাহ্মণ! দশমীযুক্ত একাদশী কখনোই পালন করা উচিত নয়। শতভাগ শুদ্ধ ও সূর্যোদয়কালে বিশুদ্ধ একাদশী নিশ্চিত করতেই দশমী সংযুক্ত একাদশী পরিত্যাগ করা হয়।


