দশগ্রীবের নাম 'রাবণ' হওয়ার পেছনে রয়েছে হিন্দু পুরাণ ও রামায়ণের একটি চমৎকার কাহিনী:
কৈলাস পর্বত ও মহাদেব শিবের কাহিনী
দশগ্রীব (যিনি পরে রাবণ নামে পরিচিত হন) যখন পরম বিশ্বজয়ী হয়ে ওঠেন, তখন অহংকারে মত্ত হয়ে তিনি একদিন তাঁর উড়ন্ত রথ 'পুস্পক রথ'-এ চেপে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কৈলাস পর্বতের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর রথ আটকে যায়।
১. মহাদেবের বিরক্তি: নন্দী (শিবের বাহন) দশগ্রীবকে জানান যে ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতী কৈলাসে অবস্থান করছেন, তাই এখন এই পর্বতের ওপর দিয়ে যাওয়া নিষেধ।
২. পর্বত তুলে নেওয়ার চেষ্টা: অহংকারী দশগ্রীব নন্দীকে অবজ্ঞা করেন এবং নিজের ক্ষমতার দম্ভে পুরো কৈলাস পর্বতকেই গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পর্বতটি দুই হাতে তুলে ঝাঁকাতে শুরু করেন।
৩. শিবের অলৌকিক খেলা: পুরো কৈলাস পর্বত কেঁপে উঠলে দেবী পার্বতীসহ সবাই বিচলিত হয়ে পড়েন। তখন মহাদেব শিব মৃদু হেসে তাঁর পায়ের বৃদ্ধাঙুলি (বুড়ো আঙুল) দিয়ে পর্বতের ওপর সামান্য চাপ দেন।
প্রচণ্ড গর্জন ও 'রাবণ' নাম লাভ
শিবের বুড়ো আঙুলের সামান্য চাপে পুরো কৈলাস পর্বত নিচে নেমে যায় এবং পর্বতচাপে দশগ্রীবের দুই হাত আটকে চূর্ণবিচূর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়।
যন্ত্রণা ও ব্যথায় কাতর হয়ে দশগ্রীব তখন এমন এক ভয়ঙ্কর ও বিকট চিৎকার (আর্তনাদ) করে ওঠেন, যার তীব্রতায় তিনটি ভুবন (স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল) কেঁপে উঠেছিল।
সংস্কৃত অর্থের ব্যাকরণ:
সংস্কৃত ভাষায় 'রু' ধাতু থেকে 'রাবণ' শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ "যে তীব্র বা ভয়াল চিৎকার করে" বা "যার গর্জনে অন্যরা ভীতি পেয়ে কাঁদে"।
দশগ্রীবের এই ভয়ঙ্কর গর্জন এবং পরবর্তীতে ১,০০০ বছর ধরে করা শিবের স্তব (যা 'শিব তাণ্ডব স্তোত্র' নামে পরিচিত) শুনে মহাদেব শিব প্রসন্ন হন। শিব তাঁর হাত মুক্ত করে দেন এবং বলেন:
"তুমি এমন ভয়াল ও তীব্র আর্তনাদ করেছ যা তিনটি ভুবনকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। তাই আজ থেকে তুমি 'দশগ্রীব' নাম ছাড়িয়ে জগৎজুড়ে 'রাবণ' নামে পরিচিত হবে।"
এভাবেই মহাদেব শিবের দেওয়া নাম থেকেই দশগ্রীবের নাম হয় 'রাবণ'।


