হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণ অনুসারে, রাবণ ছলনার আশ্রয় নিয়ে সীতাকে অপহরণ করেছিলেন। পুরো ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছিল:
মারীচের ছদ্মবেশ (স্বর্ণমৃগ): রাবণ তাঁর মামা মারীচকে একটি সুন্দর সোনার হরিণের (স্বর্ণমৃগ) রূপ ধারণ করে পঞ্চবটী বনের কুটিরের সামনে যেতে বলেন। সীতা সেই চমৎকার হরিণটি দেখে মুগ্ধ হন এবং শ্রীরামকে সেটি ধরে দিতে অনুরোধ করেন।
শ্রীরাম ও লক্ষ্মণের প্রস্থান: রাম হরিণটির পেছনে ছোটেন। হরিণরূপী মারীচকে বধ করার সময় মারীচ রামের কণ্ঠস্বর নকল করে "হা লক্ষ্মণ! হা সীতা!" বলে চিৎকার করে ওঠে। সেই চিৎকার শুনে সীতা শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং লক্ষ্মণকে রামের সাহায্যে যেতে বাধ্য করেন। যাওয়ার আগে লক্ষ্মণ সীতার সুরক্ষার জন্য কুটিরের চারদিকে একটি সুরক্ষারেখা (লক্ষ্মণরেখা) টেনে দেন এবং সীতাকে এর বাইরে না আসার অনুরোধ জানান।
সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে রাবণ: লক্ষ্মণ চলে যাওয়ার পর রাবণ এক বৃদ্ধ তপস্বী বা সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশ ধরে কুটিরের সামনে আসেন এবং ভিক্ষা চান।
সীতার রেখা অতিক্রম ও অপহরণ: ভারতীয় রীতি অনুযায়ী অতিথিকে খালি হাতে ফেরাতে নেই ভেবে সীতা ভিক্ষা দিতে আসেন। কিন্তু সন্ন্যাসীরূপী রাবণ কৌশল করে সীতাকে লক্ষ্মণরেখার বাইরে আসতে বলেন। সীতা কুটিরের রেখা অতিক্রম করতেই রাবণ তাঁর আসল রূপ ধারণ করেন এবং জোরপূর্বক সীতাকে তুলে নিয়ে তাঁর উড়ন্ত রথ পুষ্পক রথে তুলে লঙ্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথে বীর পাখি জটায়ু সীতাকে রক্ষা করার জন্য রাবণের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন, কিন্তু রাবণ জটায়ুর ডানা কেটে তাঁকে আহত করে সীতাকে লঙ্কায় নিয়ে যান।


