রাবণকে একজন মহাপণ্ডিত বলা হয়, কারণ তিনি শুধু শক্তিশালী রাজাই ছিলেন না, বরং অসাধারণ জ্ঞান, তপস্যা ও শাস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।
রাবণকে মহাপণ্ডিত বলার প্রধান কারণগুলো হলো—
চার বেদ ও ছয় শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন।
তিনি ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদসহ বহু শাস্ত্র গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন।মহাদেব শিবের পরম ভক্ত ছিলেন।
দীর্ঘ তপস্যা করে তিনি শিবের কৃপা লাভ করেন। তাঁর রচিত বলে প্রচলিত শিবতাণ্ডব স্তোত্র সংস্কৃত ভাষার এক অনন্য স্তোত্র হিসেবে পরিচিত।সংস্কৃত ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন।
তিনি জটিল দর্শন, ব্যাকরণ ও ধর্মীয় আলোচনায় পারদর্শী ছিলেন।জ্যোতিষ ও আয়ুর্বেদ সম্পর্কে জ্ঞান ছিল।
বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থে তাঁর জ্যোতিষ ও চিকিৎসাবিদ্যায় দক্ষতার উল্লেখ পাওয়া যায়, যদিও সব গ্রন্থের ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।দক্ষ শাসক ছিলেন।
তাঁর রাজধানী Lanka অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সুশাসিত ছিল বলে রামায়ণে বর্ণিত হয়েছে।
তাহলে তাঁর পতন কেন হলো?
রাবণের জ্ঞান ছিল অসীম, কিন্তু অহংকার ও অধর্মের পথ বেছে নেওয়াই তাঁর সবচেয়ে বড় ভুল। বিশেষ করে সীতা কে অপহরণ এবং বারবার সৎ পরামর্শ উপেক্ষা করার কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁর পতন ঘটে। রামায়ণের শিক্ষা হলো—জ্ঞান তখনই মহৎ, যখন তা ন্যায়, নম্রতা ও ধর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
তাই রাবণকে একদিকে মহাপণ্ডিত, অন্যদিকে অহংকারের কারণে পতিত এক মহান ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করা হয়।


