সন্ন্যাসী ও গৃহস্থের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো জীবনযাপন, উদ্দেশ্য এবং সামাজিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়:
১. জীবনধারা ও সামাজিক অবস্থান
গৃহস্থ: তিনি পরিবার, সমাজ ও সংসারের ভেতরে থেকে জীবনযাপন করেন। বিয়ে করা, সন্তান প্রতিপালন করা এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করা গৃহস্থের মূল কাজ।
সন্ন্যাসী: তিনি সংসার ত্যাগ করে সম্পূর্ণ আসক্তিহীন বা অনাসক্ত জীবনযাপন করেন। পরিবার, সামাজিক বাধ্যবাধকতা ও জাগতিক পরিচয় থেকে তিনি মুক্ত।
২. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
গৃহস্থ: আধ্যাত্মিক সাধনার পাশাপাশি অর্থ উপার্জন, সামাজিক প্রতিষ্ঠা এবং পরিবারের ভরণপোষণ ও সুরক্ষার মতো জাগতিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করা।
সন্ন্যাসী: একমাত্র মূল লক্ষ্য ঈশ্বরলাভ, আত্মোপলব্ধি বা মোক্ষ (মুক্তি) অর্জন করা।
৩. আসক্তি ও বর্জন
গৃহস্থ: সম্পদ, সম্পর্ক, ঘরবাড়ি এবং জাগতিক সুবিধার সাথে যুক্ত থাকেন।
সন্ন্যাসী: জাগতিক সম্পত্তি, আরাম-আয়েশ এবং আত্মীয়তার বন্ধন বর্জন করে ত্যাগ ও তপস্যার জীবন বেছে নেন।
৪. দায়িত্ব ও কর্তব্য
গৃহস্থ: তাঁর ওপর পরিবার, সমাজ ও আগামী প্রজন্মের দায়ভার থাকে। হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়, গৃহস্থ আশ্রম হলো অন্য সব আশ্রমের (ব্রহ্মচর্য, বানপ্রস্থ, সন্ন্যাস) ভিত্তি।
সন্ন্যাসী: তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দায়িত্ব থাকে না; তিনি সমগ্র সৃষ্টি বা সমাজের সার্বিক কল্যাণে নিজেকে নিবেদন করেন।
সংক্ষেপে, গৃহস্থের পথ হলো 'সংসারের ভেতরের সাধনা' আর সন্ন্যাসীর পথ হলো 'সংসারত্যাগের সাধনা'।


