Uzzwal DhaliVerified
August 4, 2026
বৈকুণ্ঠ ধাম কী?
1 answers
17 views
Uzzwal Dhali
Trishna Roy
Dip Kar
+3
Answer
Login
1 Answer
Uzzwal DhaliVerified
August 4, 2026

বৈকুণ্ঠ ধাম বা বৈকুণ্ঠলোক হলো বৈষ্ণব দর্শন ও সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী পরমেশ্বর ভগবান বিষ্ণু (বা শ্রীকৃষ্ণ) - এর চিরন্তন, পরম এবং অপ্রাকৃত ধাম বা বাসস্থান, যা জড়জাগতিক উপাদানে নয় বরং চিন্ময় উপাদানে নির্মিত।

এটি সনাতন ধর্মের সর্বোচ্চ স্থান বা অধ্যাত্ম জগৎ হিসেবে পরিগণিত।

১. 'বৈকুণ্ঠ' শব্দের অর্থ
'বৈকুণ্ঠ' শব্দটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত:
বগ বা ভি = বিহীন বা মুক্ত
কুণ্ঠা = উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, দুঃখ বা সীমা

অর্থাৎ, 'বৈকুণ্ঠ' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো—যে স্থানে কোনো প্রকার কুণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, ভয়, শোক বা দুঃখ নেই। এটি চিরন্তন আনন্দ ও পরম শান্তির স্থান।

২. বৈকুণ্ঠের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
জড়জগতের ঊর্ধ্বে (অপ্রাকৃত): হিন্দু দর্শন অনুযায়ী আমরা যে জগতে বাস করি তা পঞ্চভূত (মাটি, জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ) দিয়ে তৈরি এবং পরিবর্তনশীল। কিন্তু বৈকুণ্ঠ ধাম জড় পঞ্চভূত দ্বারা গঠিত নয়; এটি বিশুদ্ধ জ্ঞান, পরম আনন্দ এবং সনাতন চেতনায় গঠিত (সচ্চিদানন্দময়)।

জন্ম-মৃত্যুর প্রভাবহীন: এই জড় জগতে জন্ম, মৃত্যু, জরা (বার্ধক্য) ও ব্যাধি—এই চার প্রকার দুঃখ বিদ্যমান। কিন্তু বৈকুণ্ঠ ধামে সময়ের কোনো বিনাশকারী প্রভাব নেই। সেখানে কোনো পরিবর্তন, রোগ বা মৃত্যু নেই।

ভগবানের উপস্থিতি: বৈকুণ্ঠ ধামে ভগবান শ্রীবিষ্ণু এবং দেবী লক্ষ্মী অবস্থান করেন। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, যেসব মুক্ত আত্মা মোক্ষ লাভ করেন, তাঁরা বৈকুণ্ঠ ধামে প্রবেশ করে ভগবানের নিত্য সেবায় নিয়োজিত থাকেন।

৩. শাস্ত্রীয় দৃষ্টিতে বৈকুণ্ঠের স্থান
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ এই পরম ধামের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন —

ন তদ্ভয়াসয়তে সূর্যো ন শশাঙ্কো ন পাবকঃ।
যদ্গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম॥
— গীতা ১৫/৬

অর্থ: আমার সেই পরম ধামকে সূর্য, চন্দ্র বা অগ্নি আলোকিত করতে পারে না। যে ধামে পৌঁছালে মানুষকে আর এই জড় জগতে ফিরে আসতে হয় না, সেটিই আমার পরম ধাম।

তাই বলা যায়, বৈকুণ্ঠ ধাম হলো পরমেশ্বর ভগবানের সেই চিরন্তন ও নিত্য ধাম, যা প্রতিটি জীবাত্মার চরম ও পরম গন্তব্য এবং যেখানে পৌঁছালে জীব জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে চিরতরে মুক্তি (মোক্ষ) লাভ করে।

Uzzwal Dhali
Pavani Syamakanta Devi Dasi
Trishna Roy
+4