ভারতীয় দর্শনে মোক্ষলাভ (বা মোক্ষ) বলতে পরম মুক্তি বা পরম সত্যকে উপলব্ধি করাকে বোঝায়। এটি সনাতন (হিন্দু), বৌদ্ধ, জৈন এবং আজীবিক দর্শনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
মোক্ষলাভের মূল ধারণাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি: ভারতীয় দর্শন অনুযায়ী, প্রতিটি জীব আত্মা তার কর্মফল অনুযায়ী বারবার জন্মগ্রহণ করে এবং মৃত্যুবরণ করে (যাকে 'সংসার চক্র' বলা হয়)। এই বারবার জন্ম ও মৃত্যুর দুঃখময় চক্র থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়াকেই মোক্ষ বলে।
ঈশ্বর বা পরমাত্মার সাথে মিলন: হিন্দু দর্শন (বিশেষ করে বেদান্ত দর্শন) অনুসারে, মোক্ষ হলো জীবাত্মার পরমাত্মা বা ব্রহ্মের সাথে একীভূত হওয়া। মোক্ষলাভের পর আত্মার আর কোনো পৃথক অস্তিত্ব থাকে না, সে পরম আনন্দের অংশ হয়ে ওঠে।
অজ্ঞানতা ও মায়ার অবসান: মোক্ষ হলে মানুষের মনের সমস্ত অজ্ঞতা, বন্ধন, আসক্তি, লোভ এবং দুঃখের বিনাশ ঘটে। জীব তখন নিজের প্রকৃত আত্মস্বরূপকে জানতে পারে।
পরম আনন্দ ও শান্তি (সচ্চিদানন্দ): মোক্ষলাভ কোনো বস্তুগত বস্তু অর্জন নয়, বরং এটি আত্মোপলব্ধির এমন এক অবস্থা যেখানে চিরন্তন শান্তি ও পরম আনন্দ বিরাজ করে।
মোক্ষলাভের উপায়:
বিভিন্ন দর্শন ও শাস্ত্রে মোক্ষলাভের জন্য কয়েকটি প্রধান মার্গ বা পথের কথা বলা হয়েছে:
১. জ্ঞানযোগ: তত্ত্বজ্ঞান ও বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে পরম সত্যকে জানা।
২. ভক্তিযোগ: ঈশ্বরের প্রতি নিঃ শর্ত আত্মসমর্পণ ও পরম প্রেমের মাধ্যমে।
৩. কর্মযোগ: ফলাফলের আশা না করে নিষ্কামভাবে নিজের দায়িত্ব ও কর্ম পালন করা।
৪. রাজযোগ বা ধ্যানযোগ: মন ও ইন্দ্রিয়কে সংযমিত করে ধ্যানের মাধ্যমে সমাধি লাভ করা।


