মহাকাশযাত্রায় মানবদেহের ওপর মহাশূন্যের পরিবেশ ও ওজনহীনতার প্রভাব কেমন হবে, তা পরীক্ষা করার জন্য ১৯৬১ সালে ইউরি গ্যাগারিনের যাওয়ার আগে বিজ্ঞানী ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো বিভিন্ন ধরনের প্রাণী মহাকাশে পাঠায়।
মহাকাশে পাঠানো উল্লেখযোগ্য কিছু প্রাণী এবং তাদের ইতিহাস নিচে দেওয়া হলো —
১. মাছি - ১৯৪৭
মহাকাশে পাঠানো সর্বপ্রথম জীবিত প্রাণী ছিল এক ধরনের মাছি, যেটাকে Fruit Flies বলা হয়। ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা একটি V-2 রকেটে করে এই মাছিগুলোকে মহাকাশের সীমান্তে প্রায় ১০৯ কিলোমিটার উঁচুতে পাঠায়। বিকিরণ বা রেডিয়েশনের প্রভাব পরীক্ষা করার জন্য এদের পাঠানো হয়েছিল এবং তারা জীবিত অবস্থায় পৃথিবীতে ফিরে আসে।
২. বানর (Monkeys & Chimpanzees) - ১৯৪৮ সাল থেকে
অ্যালবার্ট ২: ১৯৪৯ সালে 'অ্যালবার্ট ২' নামক একটি রিশাস বানর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে মহাকাশে ১০৮ কিমি উঁচুতে পৌঁছায়। তবে প্যারাশুট ব্যর্থ হওয়ায় অবতরণের সময় সে মারা যায়।
হ্যাম: ১৯৬১ সালের জানুয়ারি মাসে 'হ্যাম' নামের একটি শিম্পাঞ্জি মহাকাশে যায় এবং নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসে।
৩. কুকুর - ১৯৫১ সাল থেকে
সোভিয়েত ইউনিয়ন মানুষ পাঠানোর আগে মূলত কুকুর নিয়ে নানা পরীক্ষা চালায় —
Laika: ১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন 'স্পুটনিক ২' মহাকাশযানে করে লাইকা নামের একটি পথঘোরা কুকুরকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠায়। লাইকা ছিল পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণকারী প্রথম প্রাণী। তবে মহাকাশযানের অতিরিক্ত তাপের কারণে ভ্রমণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সে মারা যায়।
Belka & Strelka: ১৯৬০ সালে এই দুটি কুকুর মহাকাশে একদিন কাটানোর পর সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় পৃথিবীতে ফিরে আসে।
৪. ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী
সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র বহুবার ইঁদুর মহাকাশে পাঠিয়েছে ওজনহীনতায় তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য। এছাড়া ১৯৫০-এর দশকে গিনিপিগও পাঠানো হয়েছিল।
৫. কচ্ছপ - ১৯৬৮
মানুষের চাঁদে যাওয়ার আগে ১৯৬৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের Zond 5 মহাকাশযানে দুটি কচ্ছপ চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসে। এরা ছিল চাঁদের কাছাকাছি যাওয়া প্রথম প্রাণী।
মাছি, বানর, কুকুর, ইঁদুর, গিনিপিগ ও কচ্ছপ — এই প্রাণীগুলোর আত্মত্যাগ ও অবদানের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে মানুষের মহাকাশযাত্রা সম্ভব হয়েছিল।


