রামায়ণ অনুযায়ী, রাম সেতু (বা সেতুবন্ধন) নির্মাণের প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. দেবী সীতাকে উদ্ধার করা: রাক্ষসরাজ রাবণ চক্রান্ত করে দেবী সীতাকে অপহরণ করে লঙ্কায় (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) বন্দি করে রেখেছিল। রামচন্দ্র তাঁর বানর সেনাদল নিয়ে সীতাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে লঙ্কায় প্রবেশের পথ তৈরি করতে এই সেতু নির্মাণ করেন।
২. বিশাল সমুদ্র অতিক্রম করা: ভারতের দক্ষিণতম প্রান্ত (রামেশ্বরম/ধনুষকোডি) থেকে লঙ্কা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এক বিশাল ও গভীর মহাসমুদ্র। রামচন্দ্র ও তাঁর লক্ষ লক্ষ বানর ও ভল্লুক সেনার জন্য একযোগে সমুদ্র পার হওয়া সেতু ছাড়া অসম্ভব ছিল।
৩. নল ও নীলের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ: দেবতা বিশ্বকর্মার পুত্র নল ও নীল নামের দুই বানর সেনাপতির বিশেষ কৌশল ও অভিশাপ/বরের শক্তিতে তাঁরা যে পাথর জলে ফেলতেন তা ভাসমান থাকত। তাঁদের তদারকিতে পাথর ও গাছপালা দিয়ে মাত্র ৫ দিনে এই ঐতিহাসিক সেতু নির্মিত হয়।
সংক্ষেপে, শ্রীরামচন্দ্র ও তাঁর বিশাল সেনাদল যেন মহাসমুদ্র পার হয়ে লঙ্কায় গিয়ে রাবণকে পরাস্ত করতে এবং দেবী সীতাকে মুক্ত করতে পারেন—এটাই ছিল রাম সেতু নির্মাণের মূল কারণ।
রাম সেতুর ইতিহাস ও রহস্য সম্পর্কিত তথ্যচিত্র
এই ভিডিওটিতে রাম সেতুর ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস ও পৌরাণিক তাৎপর্য সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।


