রাক্ষসরাজ রাবণ ছদ্মবেশে দেবী সীতাকে অপহরণ করে লঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার পর, শ্রীরামচন্দ্র সুগ্রীব ও তাঁর বানর সেনাবাহিনীর সাহায্যে এক মহাযুদ্ধের মাধ্যমে সীতাকে উদ্ধার করেন।
রাবণের বন্দিদশা থেকে দেবী সীতাকে উদ্ধারের প্রধান পর্যায়গুলো নিচে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো:
1
সুগ্রীবের সাথে সখ্যতা ও সীতার সন্ধান
বানর সেনার সহায়তা লাভ
বনবাসকালে সীতা অপহৃত হলে রাম ও লক্ষ্মণ তাঁর খোঁজে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হন। কিষ্কিন্ধায় পৌঁছে তাঁরা সুপ্রসিদ্ধ বানররাজ সুগ্রীবের সাথে বন্ধুত্ব করেন। সুগ্রীব চারদিকে বানর বীরদের পাঠান সীতার খোঁজে। হনুমান সমুদ্র পার হয়ে লঙ্কায় পৌঁছান এবং অশোক বাটিকায় বন্দী দেবী সীতার সন্ধান পান। তিনি রামের দেওয়া আংটি দেখিয়ে সীতাকে আশ্বস্ত করেন।
2
রামসেতু নির্মাণ
লঙ্কা অভিযানের প্রস্তুতি
দেবী সীতার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর শ্রীরামচন্দ্র বানর সেনা নিয়ে দক্ষিণ সমুদ্রতীরে পৌঁছান। বানর প্রকৌশলী নল ও নীলের নেতৃত্বে পাথরে রাম-নাম লিখে সাগরের ওপর রামসেতু (বা নল সেতু) নির্মাণ করা হয়। এই সেতু পার হয়ে রামের বিশাল বাহিনী লঙ্কায় প্রবেশ করে।
3
রাম-রাবণের ধর্মযুদ্ধ
রাক্ষস বাহিনীর বিনাশ
লঙ্কায় পৌঁছানোর পর যুদ্ধের সূচনা হয়। একে একে রাবণের ভাই কুম্ভকর্ণ, পুত্র মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ) সহ প্রধান প্রধান রাক্ষস বীরেরা রাম, লক্ষ্মণ, হনুমান ও সুগ্রীবের সেনাদলের হাতে নিহত হন।
4
রাবণ বধ ও লঙ্কাজয়
অশুভের পরাজয়
অবশেষে শ্রীরামচন্দ্র ও রাবণের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়। বিভীষণের পরামর্ভে রামচন্দ্র রাবণের নাভি লক্ষ্য করে ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করেন। ব্রহ্মাস্ত্রের আঘাতে রাবণ ধরাশায়ী হন এবং রাক্ষস রাজত্বের পতন ঘটে।
5
দেবী সীতার উদ্ধার ও অগ্নিপরীক্ষা
পবিত্রতা প্রমাণ ও অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন
রাবণ বধের পর বিভীষণকে লঙ্কার নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করা হয়। এরপর দেবী সীতাকে সসম্মানে শ্রীরামচন্দ্রের সামনে আনা হয়। জনসমক্ষে দেবী সীতা নিজের সততা ও পবিত্রতা প্রমাণের জন্য অগ্নিদেবকে সাক্ষী রেখে অগ্নিপরীক্ষা দেন এবং অক্ষত অবস্থায় বের হয়ে আসেন। পরবর্তীতে রাম, সীতা ও লক্ষ্মণ ১৪ বছরের বনবাস শেষে পুষ্পক রথে চড়ে অযোধ্যায় ফিরে যান।


