মহাভারতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রধানত দুইটি বিশেষ সময়ে তাঁর অনন্ত রূপ বা বিশ্বরূপ দর্শন করিয়েছিলেন:
১. কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে (অর্জুনের প্রতি)
সবচেয়ে বিখ্যাত বিশ্বরূপ দর্শনের ঘটনাটি ঘটে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ঠিক পূর্বে।
প্রেক্ষাপট: যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের আত্মীয়স্বজন ও গুরুজনদের বিপক্ষে যুদ্ধ করতে দেখে অর্জুন মোহগ্রস্ত ও বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং ধনুর্বাণ ত্যাগ করে যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানান।
ঘটনা: শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কর্ম, ধর্ম ও আত্মার অবিনশ্বরতা সম্পর্কে উপদেশ দেন (যা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা নামে পরিচিত)। গীতায় নিজেকে পরমেশ্বর হিসেবে প্রকাশ করার পর অর্জুন কৃষ্ণের প্রকৃত ঐশ্বরিক রূপ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে দিব্যচক্ষু দান করেন এবং তাঁর অনন্ত, কালস্বরূপ ও সমস্ত সৃষ্টি-স্থিতি-লয় ধারণকারী বিশ্বরূপ (বিশ্বরূপ দর্শন যোগ - গীতার ১১শ অধ্যায়) প্রদর্শন করেন।
২. কৌরব রাজসভায় (শান্তিদূত হিসেবে)
যুদ্ধের আগে শান্তি বজায় রাখার শেষ চেষ্টা হিসেবে শ্রীকৃষ্ণ হস্তিনাপুরে কৌরবদের রাজসভায় যান।
প্রেক্ষাপট: শ্রীকৃষ্ণ পান্ডবদের জন্য মাত্র পাঁচটি গ্রাম চান যেন যুদ্ধ এড়ানো যায়। কিন্তু অহংকারী দুর্যোধন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং শ্রীকৃষ্ণকে সাধারণ মানুষ মনে করে বন্দি করার আদেশ দেন।
ঘটনা: দুর্যোধনের এই মূর্খতা দেখে শ্রীকৃষ্ণ রাজসভাতেই প্রকাশ্য হাস্যে তাঁর তেজ ও বিরাট বিশ্বরূপ ধারণ করেন। সেই রূপ দেখে দুর্যোধন ও কৌরবরা ভীত হয়ে পড়েন। সভায় উপস্থিত দ্রোণ, ভীষ্ম, বিদুর ও ধৃতরাষ্ট্র (যাঁকে সাময়িকভাবে দিব্যদৃষ্টি দেওয়া হয়েছিল) কৃষ্ণের পরম সত্তা প্রত্যক্ষ করেন।
এছাড়া কৃষ্ণের বাল্যকালে মা যশোদা যখন তাঁর মুখে মাখনের সাথে মাটি খাওয়ার সন্দেহে মুখ খুলতে বলেছিলেন, তখনও যশোদা শ্রীকৃষ্ণের মুখের ভেতরে সমস্ত মহাবিশ্ব ও নক্ষত্রমণ্ডলের এক ঝলক বিশ্বরূপ দেখেছিলেন।


