একাদশী ব্রত কোনোভাবেই শুধু বিধবাদের জন্য নয়। হিন্দু শাস্ত্র মতে, পুরুষ-নারী, সধবা-বিধবা, জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সনাতন ধর্মের সর্বস্তরের মানুষের জন্যই একাদশী পালন পরম কল্যাণকর ও কর্তব্য বলে উল্লেখ রয়েছে।
শাস্ত্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিতর্কিত এই বিষয়টির মূল ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো —
সধবা নাকি শুধু বিধবা: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং বৈষ্ণব শাস্ত্র, হরিভক্তিবিলাস অনুযায়ী, গৃহস্থ পুরুষ ও নারী (সধবা ও বিধবা উভয়েই) একাদশী পালনের জন্য নির্দেশিত। হরিভক্তিবিলাসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আট বছর বয়স থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত সকল নর-নারীর একাদশী ব্রত পালন করা উচিত।
ভুল ধারণার কারণ: প্রাচীনকালে বা কিছু সামাজিক কুসংস্কারের কারণে মনে করা হতো একাদশী কেবল বিধবাদের ত্যাগের জীবনযাপনের অংশ। কিন্তু এটি একটি ভুল সামাজিক ধারণা। বিধবাদের জন্য যেমন একাদশী পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, তার অর্থ এই নয় যে সধবা নারীদের জন্য এটি নিষিদ্ধ বা অপ্রয়োজনীয়।
পতি ও পরিবারের কল্যাণ: সধবা নারীরা যদি ভক্তিভরে ঈশ্বরপ্রীতির উদ্দেশ্যে একাদশী পালন করেন, তবে তা তাঁদের নিজেদের পাশাপাশি পতি ও পরিবারের মঙ্গল বয়ে আনে।
শাস্ত্রীয় সতর্কতা: কোনো কোনো স্মার্ত শাস্ত্রে বলা আছে, সধবা নারী যদি পতির অনুমতি ছাড়া বা পতিকে উপেক্ষা করে কেবল নিজের কঠোর তপস্যার উদ্দেশ্যে একাদশী করেন, তবে তা অনুচিত। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মিলে বা স্বামীর অনুমতি নিয়ে সধবা নারী একাদশী পালন করলে তা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক।
তাই বলা যায়, একাদশী হলো আত্মা ও দেহের শুদ্ধি এবং পরমেশ্বরের আরাধনার দিন। তাই সধবা নারীদেরও সানন্দে ও নিষ্ঠার সাথে একাদশী ব্রত পালন করা উচিত।


