মহালয়া হলো দুর্গাপূজার শুভ সূচনালগ্ন বা দেবীপক্ষের আগমনী বার্তা। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের শেষ দিন, অর্থাৎ অমাবস্যা তিথিকে মহালয়া বলা হয়। এই দিন থেকেই পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘটে এবং দেবী দুর্গার 'দেবীপক্ষ' শুরু হয়।
মহালয়ার দিনটির প্রধান দুটি দিক ও তাৎপর্য নিচে দেওয়া হলো —
১. তর্পণ ও পিতৃপক্ষ সমাপ্তি
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, মহালয়ার দিন ভোরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নদী বা জলাশয়ে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে তিল ও জল দিয়ে 'তর্পণ' করেন। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ অমাবস্যায় মর্ত্যে আগমন করা পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করলে তাঁদের আত্মা তৃপ্ত হয় এবং তাঁরা বংশধরদের আশীর্বাদ প্রদান করেন।
২. দেবীর আহ্বান ও দুর্গোৎসবের সূচনা
মহালয়া শব্দটির একটি বিশেষ অর্থ হলো 'মহা + আলয়' বা পরম আশ্রয় (দেবী মহামায়ার আগমন)।
- পুরাণে বর্ণিত আছে, মহিষাসুরের অত্যাচার থেকে স্বর্গ ও মর্ত্যকে রক্ষা করতে এই দিনটিতেই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত তেজ থেকে দেবী দুর্গার সৃষ্টি হয়েছিল।
- এই দিনে চণ্ডীপাঠ ও মহামায়ার আবাহনের মাধ্যমে দেবীকে মর্ত্যে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
মহালয়ার বিশেষ সংস্কৃতি: মহিষাসুরমর্দিনী
বাঙালি সংস্কৃতিতে মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী আলেখ্য ও শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ শোনা এক পরম আবেগের বিষয়। রেডিও ও ধ্বনির মাধ্যমে প্রাক-দুর্গোৎসবের যে সুর বাজতে শুরু করে, তা সমগ্র বাঙালি সমাজকে শারদীয় উৎসবের আমেজে ভাসিয়ে দেয়।
মহালয়া হলো পূর্বপুরুষদের স্মরণের মাধ্যমে 'পিতৃপক্ষ' শেষ করে শক্তিরূপা দেবী দুর্গার আবাহন বা 'দেবীপক্ষ' সূচনা করার পরম পবিত্র তিথি।


